


নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর ও সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: সামনেই বিধানসভা ভোট। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের জন্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী যৌথভাবে টহল দিচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। চলছে নাকা তল্লাশি। শুক্রবার সাতসকালে নাকা চেকিংয়ের সময় নিউটাউনে একটি গাড়ি থেকে উদ্ধার হল নগদ ২৫ লক্ষ টাকা। অ্যাপ ক্যাবে করে যে ব্যক্তি ওই টাকা নিয়ে যাচ্ছিলেন, তাঁকে আটক করা হয়েছে। ওই ব্যক্তি কোনো নথিপত্র দেখাতে পারেননি! যেহেতু ১০ লক্ষ টাকার বেশি উদ্ধার হয়েছে, তাই কেসটি আয়কর বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একইভাবে এদিনই হাওড়ার শ্যামপুরে এক ব্যক্তির কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে নগদ ১৫ লক্ষ টাকা। ওই ব্যক্তিকেও আটক করা হয়েছে। অর্থাৎ, নিউটাউন ও হাওড়া মিলিয়ে ভোটের মুখে এদিন ৪০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হল।
পুলিশ জানিয়েছে, নির্বাচনের জন্য এখন বিধাননগর কমিশনারেটের প্রতিটি থানা এলাকায় নাকা চেকিং চলছে। জেলার সীমান্ত এলাকায় বেশি করে নজরদারি চালানো হচ্ছে। নাকা চেকিংয়ের সময় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও থাকছেন। গত ৫ মার্চ রাতে বাগুইআটির কৈখালি এলাকায় নাকা চেকিংয়ে একটি গাড়ি থেকে কার্তুজ সহ একটি পিস্তল উদ্ধার হয়েছিল। এবার বিপুল পরিমাণ টাকা মিলল। ইকোপার্ক থানার অন্তর্গত নিউটাউনের সিটি সেন্টার-২ এলাকায় ওই নাকা চেকিং চলছিল। বিধাননগর পুলিশের ফ্লাইং স্কোয়াড টিম ওই চেকিং ও নজরদারি অভিযান চালাচ্ছিল। নির্বাচন কমিশনের আদর্শ আচরণবিধি অনুযায়ী, ৫০ হাজার টাকার বেশি নগদ বহন করলে তা যাচাইয়ের আওতায় পড়তে পারে। অর্থাৎ, অর্থের উৎস ও ব্যবহারের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বৈধ নথি দেখাতে হয়। নিউটাউনের ওই ব্যক্তি কোনো নথিপত্র দেখাতে পারেননি। অন্যদিকে, এদিনই হাওড়ার শ্যামপুরেও নাকা চেকিং চলছিল। গাদিয়াড়া লঞ্চ ঘাটের কাছে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে শ্যামপুর থানার পুলিশ। টাকা বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি সৌমিত্র সাউটিয়া নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার বাসিন্দা সৌমিত্র সাউটিয়া একটি ব্যাগে করে ১৫ লক্ষ টাকা নিয়ে খড়্গপুরে যাওয়ার জন্য বেরিয়েছিলেন। লঞ্চে করে হুগলি নদী পেরিয়ে গাদিয়াড়ায় নেমে খড়্গপুরে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। লঞ্চঘাটে আগে থেকেই পুলিশ নাকা চেকিং করছিল। পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় তাঁর ব্যাগ তল্লাশি করে। তিনিও টাকার উৎস ও প্রমাণ দেখাতে পারেননি।