কালীপুজোয় বারাসতকে চ্যালেঞ্জ জানাতে  কোমর বাঁধছে নৈহাটি
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, বারাকপুর: শুধু বড়মা নয়, রাজ্যে কালীপুজোর ক্ষেত্রে অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে নৈহাটি। সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শহরে বেশ কয়েকটি পুজো মণ্ডপ থিম ও সাবেকিআনার মেলবন্ধনে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে বারাসতকে। তবে দু’একটি বাদে প্রতিটি বড় পুজোর কমিটিতেই বদল হয়ে গিয়েছে। আগে যে কমিটিগুলি ছিল তৃণমূলের কাউন্সিলার, নেতা, বিধায়কদের দখলে, বর্তমানে সেগুলি চলে গিয়েছে বিজেপির ছোট, বড়, মাঝারি নেতাদের দখলে। তৃণমূল আমলের থেকেও বড় এবং ভালো পুজো করে তাঁরা রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিতে চান।

Advertisement

নিউ স্টার ক্লাবের পুজো নৈহাটির অন্যতম বড় বলে পরিচিত। এটা প্রাক্তন বিধায়ক সনৎ দের পুজো বলে সকলে জানেন। কিন্তু সেই পুজো এবার আর সনৎ দ’র দখলে নেই। এবার এর পিছনে রয়েছেন বিজেপির নেতা-কর্মীরা। পুজোটি এবার ৬১ বছরে পড়ল। এই পুজো কমিটির সম্পাদক আইনজীবী সুদীপ্ত রায় বলেন, আমাদের উপর কোনো রাজনৈতিক প্রভাব নেই। পুরনো সদস্যরাই পুজো করছি। থিম হল মহাশক্তি। বেনারসের নন্দী গেট অনুকরণে মণ্ডপ তৈরি হয়েছে। সেখানে মহাদেবের তাণ্ডব নৃত্য তুলে ধরা হবে। সাড়ে ছ’টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কুম্ভমেলায় যে লাইভ অঘোরী নৃত্য হয়েছে, তা দেখানো হবে। তবে প্রতিমার স্নিগ্ধ রূপ। মৃৎশিল্পী রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত চাকদহের শীতল পাল। আলোকসজ্জা চন্দননগরের প্রদীপ ইলেকট্রিক। পুজোর উদ্বোধন করবেন রাজ্যের মন্ত্রী অর্জুন সিং। 
নৈহাটির হকার অ্যাসোসিয়েশনের পুজোর এবার ৪৫ বছর। এটা আইএনটিটিউসির সভাপতি বিষ্ণু অধিকারীর পুজো বলে পরিচিত। এবার অবশ্য বিষ্ণু অধিকারীর হাতে সেই পুজো আর নেই। কদিন আগে তিনি জেল থেকে মুক্ত হয়েছেন। পুজো করছেন বিজেপি নেতা মনোজ সিং। মনোজ সিং অভিযোগ করেন, ওই পুজোয় অনেক টাকা নয়ছয় হয়েছে। এবারের থিম, প্রান্তিক জনের আত্মকথা। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের মর্ম কথা তুলে ধরা হচ্ছে। প্রতিমা হবে সামঞ্জস্য বজায় রেখে। উদ্বোধন করবেন স্থানীয় বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং মন্ত্রী অর্জুন সিং।
আরেকটি হাত বদল হয়ে যাওয়া বড় পুজো হল লোহাঘাট পার্ক অ্যাসোসিয়েশন। লক্ষ্মীপুজোর দিন যার খুঁটিপুজো করেছেন মন্ত্রী অর্জুন সিং। এই পুজোর অন্যতম কর্তা সৌম্যদীপ মোদক (রিমো) জানিয়েছেন, এবার পূজোর বয়স ৬৬। থিম হল ধর্মক্ষেত্রে মহাশক্তি, যেখানে মহাভারতের কাহিনী তুলে ধরা হচ্ছে। এছাড়াও এবারের আকর্ষণ হল গোপাল স্মৃতি সংঘের নেপালের বুদ্ধমন্দির অনুকরণে মণ্ডপ। এই পূজোর বয়স ৬২। শুরু করেছিলেন সিপিএমের দেবু ঘোষ। ২০০০ সালের ১৬ জুন আর বি সি রোডে তিনি খুন হয়ে যাওয়ার পর তাঁর ছেলে সন্দীপ ঘোষ এবং পাড়ার লোকেরা মিলে পুজো করে যাচ্ছেন। সন্দীপ ঘোষ বলেন, এটা আমাদের পাড়ার সকলের পুজো। এখানে কোনো রাজনীতি নেই। অন্যদিকে, অভিযাত্রী ক্লাব তৈরি করছে কেদারনাথ মন্দির অনুসরণে মণ্ডপ, পাড়ার সবাই ক্লাবের থিম হচ্ছে মহাকাল, আর স্বামীজির সংঘের মণ্ডপ হচ্ছে অযোধ্যার রাম মন্দিরের অনুকরণে।