সংবাদদাতা, সিউড়ি: পুজোর মরশুমে দেদারে বিকোচ্ছে রেডিমেড নাড়ু। তা কিনতে ভিড়ও করছে মানুষ। ক্রেতারা বলছেন, নাড়ু বানানোতে ঝক্কি কম নয়। তাই দোকান থেকেই কিনে নেওয়া ভালো। তাতেই গত কয়েক বছরে এই নাড়ুই যেন শিল্প হয়ে উঠেছে এই জেলায়।
সংবাদদাতা, সিউড়ি: পুজোর মরশুমে দেদারে বিকোচ্ছে রেডিমেড নাড়ু। তা কিনতে ভিড়ও করছে মানুষ। ক্রেতারা বলছেন, নাড়ু বানানোতে ঝক্কি কম নয়। তাই দোকান থেকেই কিনে নেওয়া ভালো। তাতেই গত কয়েক বছরে এই নাড়ুই যেন শিল্প হয়ে উঠেছে এই জেলায়।
বাঙালির সর্ববৃহৎ উৎসব দুর্গাপুজো। আর দশমীতে মিষ্টির প্লেটে নাড়ু, নিমকি থাকবে না, তা হয় না। আবার চিনি বা গুড় দিয়ে তৈরি নারকেলের নাড়ু ছাড়া বাঙালির লক্ষ্মীপুজো হয় নাকি। তাই আজ থেকে বছর দশেক আগে পর্যন্ত সিউড়ি ও আশেপাশের এলাকায় চিত্রটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। পুজোর কয়েকদিন আগে থেকেই মা, কাকিমারা শুরু করে দিতেন নারকেল, তিল সহ নানা ধরনের নাড়ু বানাতে। কিন্তু গত কয়েক বছরে চিত্র অনেকাংশে বদলে গিয়েছে। এখন আর বাড়িতে নাড়ু বানাতে দেখাই যায় না। অগত্যা ভরসা দোকান। সেখানেই প্যাকেটবন্দি হয়ে বিকোচ্ছে নারকেল, তিল, বোঁদের নাড়ু। সঙ্গে বিকোচ্ছে প্যাকেটবন্দি নিমকি, আরসে সহ নানান ধরনের খাদ্যসামগ্রী। ক্রেতাদের অনেকেই জানান, আগে বাড়িতেই বানানো হতো এই সমস্ত খাদ্যদ্রব্য। কিন্তু বর্তমানে বাড়িতে লোকবল কম। পরিবারগুলো ছোট হয়ে গিয়েছে। তাই নারকেল কুরিয়ে, আঁচে চড়িয়ে, গোল্লা পাকিয়ে নাড়ু তৈরির যে ঝক্কি তা কেউ নিতে চান না। বিশেষত শহরাঞ্চলে বাসিন্দাদের মধ্যে নাড়ু বানানোর অভ্যাস প্রায় চলে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই মুদিখানার দোকানে কিংবা বাজার থেকে কিনে আনার প্রবণতা তৈরি হয়েছে মানুষের মধ্যে। সিউড়ি শহরবাসী সৌভিক মালী, শর্মীলা দাসরা জানান, বাড়িতে মা বানাতে চায় এখনও। কিন্তু আমরাই বারণ করি। কারণ বাড়িতে করলে অনেক ধকল হয়। তাই বাজার থেকেই কিনে নিচ্ছি। ক্রেতাদের আরও দাবি, আগে একান্নবর্তী পরিবারে অনেকজন মিলে এই সব বানাত। কিন্তু এখন অধিকাংশই ছোট পরিবার। তাই এই বানানোর ঝক্কি অনেকেই নিতে চান না। আর যা বাজারেই কিনতে পাওয়া যাচ্ছে। তা কষ্ট করে বানানোর কি দরকার। তবে, এর একটা ইতিবাচক দিকও আছে। ইদানীং নাড়ু বানানো শিল্প হয়ে গিয়েছে। বাড়িতে না বানালেও বিজয়া দশমীতে নাড়ু খাওয়ার রেওয়াজ তোরয়েছে। তার উপর লক্ষ্মীপুজোয়ও লাগে। ফলে অনেকেই এখন নাড়ু বানিয়ে বাজারে বিক্রি করে দু’ পয়সা রোজগার করছেন। সিউড়ি শহরের টিকাপাড়ার দোকানি মহম্মদ সাজিদ, মাসুম সাউ বলেন, গত কয়েক বছর ধরে ভালো চাহিদা রয়েছে নাড়ুর। আমরা বিক্রি করেও লাভ পাচ্ছি। এই পুজোর মরশুমে খুব ভালো চাহিদা থাকে। এবছরও রয়েছে। তাঁরা জানান, প্যাকেটের আয়তনের উপর বিভিন্ন ধরনের নাড়ু আছে। যেমন, নারকেল নাড়ু ৫০ টাকা প্যাকেট শুরু। আবার বোঁদে, তিল এই সবের কোনওটা ৫০ টাকা, তো কোনটা ৬৫ টাকা প্যাকেট দরে বিকোচ্ছে।