Bartaman Logo
২৪ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নদীয়ার গ্রাম পূর্ব বর্ধমানে, আবার উল্টোটাও, চরের মানুষরা ভোট দিতে যান ভাগীরথী পেরিয়ে

একই গ্রাম, কিন্তু তার বিস্তৃতি ভাগীরথীর দুই পারজুড়ে। নদীর এক পারে গ্রাম অন্য পারে বুথ। ভোট দিতে ভাগীরথী পার হতে হয় বাসিন্দাদের।

নদীয়ার গ্রাম পূর্ব বর্ধমানে, আবার উল্টোটাও, চরের মানুষরা ভোট দিতে যান ভাগীরথী পেরিয়ে
  • ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: একই গ্রাম, কিন্তু তার বিস্তৃতি ভাগীরথীর দুই পারজুড়ে। নদীর এক পারে গ্রাম অন্য পারে বুথ। ভোট দিতে ভাগীরথী পার হতে হয় বাসিন্দাদের। কাটোয়া-২ ব্লকের চরবিষ্ণুপুরের বাসিন্দারা কয়েক বছর ধরে এভাবেই ভোট দিয়ে আসছেন৷ ভোটের দিন সকাল থেকে নৌকা করে ছেলেপুলের হাত ধরে ভোট দিয়ে এলেন বাসিন্দারা৷ 

Advertisement

চরবিষ্ণুপুর অবস্থানগত ভাবে নদীয়ার দিকে হলেও প্রশাসনিক ভাবে পূর্ব বর্ধমান জেলার অংশ। গ্রামের বাসিন্দারা জানান, এক সময় একসঙ্গেই সবাই বসবাস করতাম। কিন্তু ভাঙনে বার বার বাড়িঘর ভাঙায় নদীর দুই পারে ভাগ হয়ে গিয়েছে চরবিষ্ণুপুর। ভোট দিতে নদীর ওপারেই যেতে হয়। কয়েক বছর আগে পূর্ব বর্ধমান জেলার ভূখণ্ডের সঙ্গে থাকা বুথটা ওপারে নদীয়া জেলার ভূখণ্ডের সঙ্গে রয়েছে। ভাঙন আমাদের সব শেষ করে দিল। 
অগ্রদ্বীপ পঞ্চায়েতের চরবিষ্ণুপুরে ভাগীরথীর ভাঙন ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে। প্রায় গোটা গ্রামই ভাঙনের কবলে। এক সময় যে গ্রামে কয়েকশো পরিবার বাস করত। এখন সেখানে মেরে কেটে খান দশেক পরিবারের বাস। ভাঙনের কারণে সরকারি ভাবে পাট্টা দিয়ে পরিবারগুলোকে সরিয়েও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গ্রামে একটিই বুথ। সেই ১৮৩ নম্বর বুথের ভোটার ৫৫০ জন৷ 
এক নতুন ভোটার বলেন, আমাদের আগে যেখানে বাড়ি ছিল, সেখানে এখন ভাগীরথী বইছে। ভাঙনের জন্য আমরা উঠে এসে এপারে বাড়ি করেছি। তবে এখনও আমাদের ভোট দিতে ওপারেই যেতে হয়। গ্রামের বাসিন্দা কানু রায়,  অশোকা রায় বলছেন, ভাঙন আমাদের সব শেষ করে দিয়েছে। সব কিছু এপারে থাকলেও ভোটের সময়ে ওপারেই যেতে হয়। ভোট এলে নৌকার মাঝিদেরও উপার্জন বাড়ে। 
চরবিষ্ণুপুরের বিপরীত চিত্র দেখা যায় নয়াচরে। এই গ্রাম পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া শহর লাগোয়া। কিন্তু আদতে তা নদীয়া জেলার অন্তর্ভুক্ত। ভাগীরথী পেরিয়ে ভোট করাতে এসেছেন নদীয়া জেলার ভোট কর্মীরা। এ যেন ‘ছিটমহল’ গ্রাম। নয়াচরের বাসিন্দারা মূলত কৃষিজীবী। গ্রামের চারিদিকে ভাগীরথী নদী। ঠিক যেন দ্বীপ। নয়াচর শুধু গাছপালায় সাজানো। ছেলেমেয়েদের পড়তে যেতে হয় কাটোয়া শহরে। অথচ খাতায় লিখতে হয় জেলা নদীয়া। গ্রামের গোবিন্দপুর, চৌধুরীপাড়া, বাউল পাড়া ও নয়াচর মিলিয়ে প্রায় ৮ হাজারের কাছাকাছি বাসিন্দার বাস। ভোটকর্মীদেরও জল ডিঙিয়ে তেপান্তরে আসতে হয়েছে। 
কালীগঞ্জের গোবরা অঞ্চলের ফুলবাগানের ২৫২ নম্বর বুথে ভোট দিতে আসেন কেতুগ্রাম লাগোয়া শিলুড়ির চর গ্রামের বাসিন্দারা। নৌকা করেই তাঁরা ভোট দিতে যান৷ বুথটিতে ৯৩৭ জন ভোটার৷ তারমধ্যে ২৮০ জন বিচ্ছিন্ন গ্রাম হিসাবে পরিচিত শিলুড়ির চরে থাকেন৷ নদীর চরেই জীবন গাঁথা রয়েছে প্রান্তিক মানুষদের৷ তবে গণতন্ত্রের উৎসব পালন করতে এটুকু কষ্ট করতে পিছপা নন তাঁরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ