অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: বাংলার বাড়ি প্রকল্প বাড়ি তৈরির নিরিখে রাজ্যের মধ্যে শীর্ষস্থানে নদীয়া জেলা। প্রথম কিস্তির টাকা দিয়ে সেই বাড়ি তৈরি করেছেন উপভোক্তারা। বর্তমানে তাঁরা দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাওয়ার ব্যাপারে যোগ্য। রাজ্য সরকারের তরফে বাংলার বাড়ি প্রকল্পে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা এলেই উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে সেই টাকা পোঁছে যাবে বলে জানা গিয়েছে। যদিও কবে সেই টাকা আসবে, তা নিশ্চিত নয়। পাশাপাশি জেলায় বহু উপভোক্তা রয়েছেন, যাঁরা এখনও বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করতে পারেননি। তাঁদের ব্লক প্রশাসনের তরফে নোটিস করা হচ্ছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, মূলত জমি জটের কারণে বাড়ি তৈরির কাজ আটকে রয়েছে।
নদীয়া জেলা পরিষদের সচিব অনুপম চক্রবর্তী বলেন, ‘বাড়ি তৈরির কাজ জোরকদমে চলছে। আশি শতাংশের বেশি পরিবার তাঁদের নির্ধারিত সীমানা পর্যন্ত তৈরি করে ফেলেছে। তাঁরা দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাওয়া যোগ্য। বাকিরাও দ্রুত কাজ করছে। কোথাও উপভোক্তাদের সমস্যা হলে প্রশাসনের তরফ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় প্রথম কিস্তির টিকা পেয়েছে ৪৬ হাজার ৪৩৮ জন উপভোক্তা। যার মধ্যে ফার্স্ট ইনটেল বা দরজা পর্যন্ত প্রথম ধাপের বাড়ি করে ফেলেছেন ৩৯ হাজার উপভোক্তা। অর্থাৎ, নদীয়া জেলার প্রায় ৮৪ শতাংশ উপভোক্তা দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাওয়ার যোগ্য। এই নিরিখে রাজ্যের মধ্যে নদীয়া জেলা শীর্ষস্থানে। পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে, এখনও পর্যন্ত নদীয়া জেলার প্রায় ৪০০ জন উপভোক্তা বাড়ি তৈরির কাজে হাত লাগাননি। ব্লকে প্রশাসনের তরফ থেকে ইতিমধ্যেই তাঁদের কাছে নোটিস পৌঁছে গিয়েছে। কারণ আশঙ্কা করা হচ্ছে, বাড়ি না বানিয়েও বেশ কিছু উপভোক্তা সরকারি টাকা আত্মসাৎ করতে চাইছে।
যদিও প্রশাসনের আধিকারিকদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে পরিবারের কেউ বাংলার বাড়ি তৈরির টাকা পেয়েছেন। সমীক্ষার সময় দেখা গিয়েছিল ওই ব্যক্তির জমি জায়গার কাগজপত্র সব ঠিক আছে। কিন্তু বাড়ি তৈরি করার সময় জমি জটিলতা সামনে আসছে। পরিবারের কোনও শরিকই সেই জমি নিজের বলে দাবি করছে। যার ফলে কাজ আটকে যাচ্ছে।
গত বছর ডিসেম্বরে মাসে নদীয়া জেলার মোট ১ লক্ষ ৮১ হাজার আবেদনকারীর তালিকা নিয়ে সমীক্ষার কাজ শুরু হয়েছিল। যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ১ লক্ষ ৬৭ হাজার উপভোক্তার নাম ছিল। সেই তালিকার ৫১ হাজার উপভোক্তার নাম অনুমোদন করা হয়েছিল আগেই। বাকি ১ লক্ষ ১৮ হাজার উপভোক্তা ছিল পার্মানেন্ট ওয়েটিং লিস্টের তালিকায়। সেইসঙ্গে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবিত গৃহহীন পরিবারদেরকেও তালিকায় যুক্ত করা হয়। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীয়া ১ লক্ষ ৩৩ হাজার ১১৭ জন আবেদনকারীকে যোগ্য উপভোক্তা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তালিকা থেকে বাদ পড়েছে প্রায় ৩৪ হাজার আবেদনকারীর নাম। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে পূর্ব নির্ধারিত ৪৬ হাজার উপভোক্তাকে চিহ্নিত করা হয়। তাঁদেরকেই প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয়।