নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: এককালে ছিল যমুনা নদীর অংশ। পরে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বসিরহাট মহকুমার সীমান্ত এলাকা স্বরূপনগর ব্লকের তিনদিক ঘিরে রয়েছে অশ্বখুরাকৃতি এই বিশাল আকারের বাওড়টি। এর অন্যদিকে গোবরডাঙা। লোকে ডাকে ‘কঙ্কনা বাওড়’ বলে।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: এককালে ছিল যমুনা নদীর অংশ। পরে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বসিরহাট মহকুমার সীমান্ত এলাকা স্বরূপনগর ব্লকের তিনদিক ঘিরে রয়েছে অশ্বখুরাকৃতি এই বিশাল আকারের বাওড়টি। এর অন্যদিকে গোবরডাঙা। লোকে ডাকে ‘কঙ্কনা বাওড়’ বলে।
এখন পলি পড়ে নাব্যতা হারিয়েছে বাওড়টি। কচুরিপানায় ভরে। তবুও দল বেঁধে পাখিরা আসে। প্রচুর গাছগাছালি। অপরূপ প্রাকৃতিক এর সৌন্দর্য। শুধু কি এই? এই বাওড় মৎসজীবীদের অন্যতম ভরসা। এটি ব্লকের জল নিকাশির অন্যতম মাধ্যমও। পাখিদের আশ্রয়স্থল। গোবরডাঙা ও স্বরূপনগরের ফুসফুস। বর্ষায় বিশাল আকৃতির বাওড়টির রূপ রাক্ষুসে, ভয়ঙ্কর, অপরূপ। শীতে পাখিদের জন্য ঝলমল করে চেহারা। উপযুক্ত পরিকাঠামো না থাকা সত্ত্বেও মানুষ বেড়াতে আসে। এবার প্রশাসন এবং স্থানীয় মানুষ চাইছে, বাউড় ঘিরে গড়ে উঠুক পর্যটনক্ষেত্র। দূর দূর থেকে লোকজন আসুক। জনপ্রিয় হয়ে উঠুক গোটা এলাকা। এই লক্ষ্যে বাওর সংস্কার করে পর্যটনস্থল হিসেবে গড়ে তুলতে রাজ্য পর্যটন দপ্তরে আবেদন জানাল স্বরূপনগর পঞ্চায়েত সমিতি।
জলাশয়টির বিস্তৃতি ২৩০ একরজুড়ে। যমুনা নদী গতিপথ পরিবর্তন করে বাঁক নেয়। ফেলে যায় অশ্বখুরাকৃতি হ্রদটি। মুখে মুখে নাম হয় কঙ্কনা বাউর। এখন রত্না নামে একটি খালের মাধ্যমে যমুনা নদীর সঙ্গে যুক্ত। ডিসেম্বর থেকে দেশ-বিদেশের পাখি আসতে শুরু করে। মার্চ অবধি টানা থাকে। সরালি, লাল ঝুঁটি ভূতি হাঁস, সিঁথি হাঁস, নর্থান পিনটেল, রাম চ্যাগা ইত্যাদি পাখি দেখতে ভিড় হয়। বর্তমানে পাখি আসা কমেছে। ফলে পর্যটক সংখ্যাও কমেছে। এখন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সকলের প্রিয় কঙ্কনা।
জয়দেব সমাদ্দার নামে এক পরিবেশপ্রেমী বলেন, ‘সংস্কারের অভাবেই এই অবস্থা। গভীরতাও কমে গিয়েছে। কচুরিপানা জেলেরাই পরিষ্কার করেন। দূষণের কারণে মাছও কমেছে।’ তাপস কর, রবীন পাইক নামে দুই স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘জলধারণ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় বর্ষার সময় বন্যা হয়। বানভাসি হয় আশপাশের একাধিক গ্ৰাম।’ বাওড়কে ঘিরে ইকো ট্যুরিজম গড়ে তোলার দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।
সবার বক্তব্য, ‘পর্যটনকেন্দ্র গড়ে উঠলে কর্মসংস্থান হবে। বাঁচবেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা। অর্থনৈতিকভাবে উন্নত হবে এলাকা।’ স্বরুপনগর পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি নারায়ণচন্দ্র কর বলেন, ‘আমরা বাওড় নিয়ে পরিকল্পনা করেছি। মূলত লক্ষ্য, সংরক্ষণ করে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলা। এ নিয়ে আমরা নবান্নে প্রস্তাব জমা দিয়েছি। বড় কাজ। তাই সময় লাগছে। কাজ হবে আমরা নিশ্চিত।’ নিজস্ব চিত্র