নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সময়সীমা অর্থ বর্ষের শেষ ৩১ মার্চ পর্যন্ত। কিন্তু, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই ভিবি-জি রাম জি প্রকল্পে যথাযথ অগ্রগতি চায় নবান্ন। অন্যথায় মাঠপর্যায় দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের কাজের মান পর্যালোচনা করে হতে পারে পদচ্যুতিও। ঠিকমতো দায়িত্ব পালন না করলে নির্মাণ সহায়কদের বেতন বন্ধের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। সূত্রের খবর, বুধবার বিধাননগরে পঞ্চায়েত দপ্তরের সদর দপ্তর থেকে এই প্রকল্প সংক্রান্ত বিডিও স্তর পর্যন্ত পর্যালোচনা বৈঠকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে এমনই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যদিও বৈঠকের পর কাজের অগ্রগতির প্রশংসা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পঞ্চায়েত স্তরে একাধিক প্রশাসনিক সমস্যা এবং কর্মী সংকটের মোকাবিলা করতে হয়েছে। তবে ইতিমধ্যে প্রকল্পের কাজে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতিও হয়েছে। চলতি অর্থবর্ষে রাজ্যের লক্ষ্যমাত্রা ২২ কোটি কর্মদিবস তৈরি এবং ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা। এর মধ্যে কেন্দ্রের বরাদ্দ প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা এবং রাজ্যের অংশ প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা। ইতিমধ্যে কেন্দ্র প্রাথমিক পর্যায়ে ১২০০ কোটি টাকা দিয়েছে। এখনো পর্যন্ত ৬৫ লক্ষ ৬২ হাজার কর্মদিবস তৈরি হয়েছে। দৈনিক কর্মদিবস তৈরির পরিমাণ বেড়ে ৭ লক্ষ ৯ হাজারে পৌঁছেছে।’ তাঁর দাবি, দৈনিক প্রায় ২২ লক্ষ গ্রামীণ মানুষ এই প্রকল্পে এখন কাজ করছেন।
এদিনের পর্যালোচনা বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী পাশাপাশি ছিলেন দপ্তরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, প্রতিমন্ত্রী শান্তনু প্রামাণিক, কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল, মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, দপ্তরের সচিব পি উলগনাথান প্রমুখ পদস্থ কর্তার। রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসক ও ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকরাও ভার্চুয়ালি বৈঠকে যোগ দেন। পর্যালোচনায উঠে আসা হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যের মোট কর্মদিবস তৈরির ৫৮ শতাংশই ছয়টি জেলা থেকে আসছে। পূর্ব বর্ধমান, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বাঁকুড়া, হুগলি, কোচবিহার ও পশ্চিম মেদিনীপুর। অন্যদিকে, জলপাইগুড়ি, দক্ষিণ দিনাজপুর, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, পশ্চিম বর্ধমান ও মালদহে কর্মদিবস তৈরির পরিমাণ অনেক কম। এই ছয় জেলার কাজ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী উষ্মা প্রকাশ করে জেলাশাসকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলেই সূত্রের খবর। একই সঙ্গে নভেম্বর মাসে ৩.৮১ কোটি, ডিসেম্বরে ৭.৩৬ কোটি, জানুয়ারিতে ১৩.৪১ কোটি, ফেব্রুয়ারিতে ২০.৬৬ কোটি এবং মার্চের মধ্যে ২২.০৬ কোটি কর্মদিবস তৈরির লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ৩০ লক্ষেরও বেশি অযোগ্য শ্রমিকের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন করে প্রায় ১০ লক্ষ জব কার্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, কেন্দ্রকে অদক্ষ শ্রমিকদের মজুরি (বর্তমানে ৩০০ টাকা) বাড়ানোর প্রস্তাবও দেওয়া হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। আবার গ্রাম রোজগার সহায়কদের সাম্মানিক বৃদ্ধির প্রস্তাব নভেম্বরের মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
ভিবি-জি রাম জির মাধ্যমে গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও পরিকাঠামো উন্নয়নে পশ্চিমবঙ্গকে দেশের অন্যতম মডেল হিসেবে তুলে ধরাই রাজ্যের লক্ষ্য বলেও তিনি জানিয়েছেন। এজন্য গ্রামে গ্রামে লোকশিল্পীদের মাধ্যমে প্রচার এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরে এসে প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার আবেদন জানানো হবে। আবার, নিউটাউনে পাঁচ একর জমিতে নতুন পঞ্চায়েত ভবন তৈরির ঘোষণাও এদিন করে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী (গ্রামীণ) আবাস প্রকল্পের আগামী দুবছরের মধ্যে রাজ্যে ৪৭ লক্ষ বাড়ি তৈরির টার্গেট নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।



