প্রীতেশ বসু, কলকাতা:
প্রীতেশ বসু, কলকাতা:
২০২১ সালে কোভিড মহামারির আবহে বিধানসভা ভোট হয়েছিল রাজ্যে। সেই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিশ্রুতি ছিল, ক্ষমতায় এলে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ শুরু করা হবে। লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের হাতে নগদের জোগান নিশ্চিত করা। ক্ষমতায় এসে সেই বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকেই রাজ্যের ১ কোটি ৪৯ লক্ষ মহিলার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে শুরু করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। দেখতে দেখতে আরও একটি বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। এই সময়কালে দেখা যাচ্ছে, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন ২ কোটি ২০ লক্ষ ২৫ হাজার ৩৪২ জন মহিলা। এই বিপুল সংখ্যক উপভোক্তার হাতে গত ৫০ মাসে ৭২ হাজার ১২৯ কোটি টাকার নগদ জোগান নিশ্চিত করেছে নবান্ন। রাজ্যের কোষাগার থেকেই এই টাকা দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, সামাজিক সুরক্ষা সুনিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ যে অন্য যে কোনও রাজ্যের সরকারকে পিছনে ফেলতে পারে, তা এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট।
রাজ্যের নারী ও শিশু ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী শশী পাঁজা জানিয়েছেন, বিহারে নির্বাচন আসতেই এককালীন ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে মহিলাদের। কিন্তু এই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। একাধিক রাজ্য পশ্চিমবঙ্গের দেখাদেখি মহিলাদের ভাতা দেওয়ার প্রকল্প চালু করেছে। কিন্তু একাধিক শর্ত থাকায় অনেকেই তার সুবিধা পান না। অনেক ক্ষেত্রে আবার ভোট মিটতেই প্রকল্প মুখ থুবড়ে পড়েছে। কিন্তু, পশ্চিমবঙ্গে দল মত নির্বিশেষে কোনও শর্ত ছাড়াই প্রকল্পের সুবিধা প্রদান করা হয়। সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর মস্তিষ্কপ্রসূত এই প্রকল্প ‘ইউনিভার্সাল বেসিক ইনকাম’ (ইউবিআই)-কেও সুনিশ্চিত করেছে। এই ইউবিআই’র কথাই কোভিডের সময় বলেছিলেন নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেন।
রাজ্যের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, উপভোক্তাদের মধ্যে ২৯ লক্ষ ৪৫ হাজার ৯৭২ জন তফসিলি সম্প্রদায়ের। ৪ লক্ষ ৭৮ হাজার ৪২৭ জন তফসিলি উপজাতির। সমাজের সমস্ত স্তরের মহিলাদের হাতে নগদের জোগান নিশ্চিত করার সুফল মিলেছে নানাভাবে। এমনকি, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের টাকা বহু মহিলা ছেলে-মেয়ের পড়াশোনার জন্য খরচ করেছেন বলে উঠে এসেছে এক সমীক্ষায়। এই তথ্য সামনে রেখে রাজ্যের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, এর ফলে প্রায় ২ কোটি ২১ লক্ষ মহিলার স্থায়ী আয় নিশ্চিত হয়েছে। ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে রাজ্যের অর্থনীতিতে। ডিসেম্বরে আরও কয়েক লক্ষ মহিলা নতুন করে এই প্রকল্পের আওতায় আসতে চলেছেন বলে খবর।
শুরুতে এই প্রকল্পে তফসিলি জাতি ও উপজাতির উপভোক্তাদের প্রতি মাসে ১০০০ টাকা করে দেওয়া হতো। অন্যান্যরা পেতেন ৫০০ টাকা করে। পরবর্তীকালে এই অঙ্ক বাড়িয়ে যথাক্রমে ১২০০ টাকা ও ১০০০ টাকা করা হয়। এছাড়া, ষাটোর্ধ্ব হলেই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বার্ধক্য ভাতা পেতে শুরু করেন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রাপক। ইতিমধ্যে ৭ লক্ষ ৮৫ হাজার ৬৮৩ জন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রাপক স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বার্ধক্য ভাতা পেতে শুরু করেছেন। তফসিলি জাতির ৫৩ হাজার ৪১১ জন এবং তফসিলি উপজাতির ৭ হাজার ৮২১ জন ‘তফসিলি বন্ধু’ এবং ‘জয় জোহার’ প্রকল্পের মাধ্যমে বার্ধক্য ভাতা পেতে শুরু করেছেন।