নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দেশের মধ্যে ষষ্ঠ ব্যস্ততম বিমানবন্দর কলকাতা। এখানে যাত্রী সংখ্যা বাড়ছে প্রতিদিনই। করোনা পূর্ববর্তী সময়ে যে উড়ান পরিষেবা ছিল, সেই অবস্থাতেই ফিরে যাওয়ার তৎপরতা চলছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে বিমান আসা-যাওয়ার সংখ্যা যাতে আরও বৃদ্ধি পায়, সেই ব্যাপারে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই সূত্রেই বুধবার একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হল নবান্নে। ছিলেন স্বরাষ্ট্রসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীসহ রাজ্য প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা।
আরও ছিলেন কলকাতা বিমানবন্দরের অধিকর্তা প্রভাতরঞ্জন বেউরিয়া, ট্রাভেল এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার মানব সোনি, অঞ্জানি কুমার ধানুকা, এওসি চেয়ারম্যান অনুশীলা চর্তুবেদি প্রমুখ। কলকাতা থেকে এখন দেশ-বিদেশের মধ্যে কতগুলি উড়ান চলাচল করছে, তাতে যাত্রী সংখ্যা কত—এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তাতে আলোচনা হয়েছে, কলকাতা-লন্ডন উড়ান পরিষেবা চালুর ব্যাপারে বাড়তি উদ্যোগ নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন লন্ডন সফরে গিয়েও এই উড়ান পরিষেবা চালুর ব্যাপারে গুরুত্ব আরোপ করেন। তার প্রেক্ষিতেই এই ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিমানবন্দরের আধিকারিকরা যাতে কলকাতা-লন্ডন সরাসরি উড়ান পরিষেবা চালু নিয়ে কথা বলেন, সেই বিষয়টিও আলোচনায় উঠে এসেছে।
বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেসব আন্তর্জাতিক উড়ান কলকাতায় আপাতত বন্ধ, সেগুলি ফের চালু করার জন্য বিমান সংস্থাগুলিকে উৎসাহিত করা হবে। আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলিকে বেশকিছু আকর্ষণীয় ছাড় দেওয়া হবে বলেও কথা হয়েছে বৈঠকে। এছাড়া শ্রীলঙ্কান এয়ারলাইন্স, ক্যাথি প্যাসিফিক, মালিন্দো এয়ার, চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের সঙ্গে কথা বলে আন্তর্জাতিক উড়ান পরিষেবা কলকাতা থেকে চালু করার কথা হয়েছে। যেহেতু দেশের মধ্যে পর্যটন মানচিত্রে কলকাতা বিশেষ জায়গা নিয়ে রেখেছে, তাই বিমানযাত্রীদের কাছেও তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে। করোনার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে বছরে যাত্রীর গড় ছিল ২ কোটি ২০ লক্ষ। এখন তা আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে বৈঠকে।