Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নয়া চুক্তিতে ভাড়া বাবদ মাসে পুরসভার আয় হবে ১৫ লক্ষ 

নয়া চুক্তিতে ভাড়া বাবদ মাসে পুরসভার আয় হবে ১৫ লক্ষ 
  • ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: নামমাত্র টাকায় বরানগর হাসপাতালের বিপুল জায়গা একটি বেসরকারি সংস্থাকে ভাড়ায় দেওয়া নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছিল। এনিয়ে হইচই শুরু হতেই নড়েচড়ে বসেছে পুরসভা। মাসিক ভাড়া প্রতি বর্গফুট পিছু ৭০ টাকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি পার্কিং ফি ও জেনারেটর রক্ষণাবেক্ষণের খরচ আলাদা করে দিতে হবে সংস্থাটিকে। এই সিদ্ধান্তের কপি ওই বেসরকারি সংস্থাকে পাঠানো হয়েছে। ওই সংস্থাটি হাসপাতাল ভাড়া নিয়ে পরিচালনা করে। পুরসভা সূত্রের খবর, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে মাসে আয় ১৫ লক্ষ টাকা ছাড়াবে। আগে মাসিক ভাড়া ছিল ২৫ হাজার ১০১ টাকা।
Advertisement
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বেসরকারি সংস্থাকে বরানগর পুরসভার নিজস্ব হাসপাতাল ভবন স্বল্পমূল্যে ভাড়া দেওয়া নিয়ে সিআইসি বৈঠকে তীব্র বিতর্ক হয়েছিল। গত ৩১ জানুয়ারি পুরসভার আধিকারিকদের উপস্থিতিতে ফের স্পেশাল সিআইসি মিটিং ডাকা হয়। তাতে ঠিক হয়েছে, ওই সংস্থার থেকে প্রতি বর্গফুট পিছু মাসে ৭০ টাকা ভাড়া নেওয়া হবে। সংস্থাটি মোট ২০ হাজার ৫৫১ বর্গফুট জায়গায় হাসপাতাল চালাচ্ছে। পার্কিং এলাকার চার্জ আলাদা করে ধার্য করা হবে। চারতলায় হাসপাতাল ভবনের ৯ হাজার ৫৫৭ বর্গফুট জায়গা আগামী এক মাসের মধ্যে ফাঁকা করতে হবে। হাসপাতালের মধ্যে থাকা পুরসভার পাখা ও আলো ফেরত দিতে হবে। তা ব্যবহার করলে তার ভাড়া গুনতে হবে পাশাপাশি জেনারেটর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পুরসভাকে মাসিক ১০ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হবে। এই চুক্তি ১০ বছরের জন্য হবে। এই ভাড়া প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে বাড়ানো হবে।  
গত ২৩ জানুয়ারি বর্তমান পত্রিকায় একটি খবর প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে লেখা হয়েছিল, হাসপাতালের ৩০ হাজার বর্গফুট এলাকা মাত্র ২৫ হাজার ১০১ টাকায় একটি বেসরকারি সংস্থাকে ভাড়া দেওয়া নিয়ে সিআইসি মিটিংয়ে তুলকালাম হয়। সিআইসি সদস্যদের অভিযোগ ছিল, নামেই পিপিপি মডেল। পুরসভার কোনও কর্মী বা শহরবাসী আলাদা কোনও সুবিধা পায় না এখানে। যদিও ওই সংস্থার তরফে প্রতিবাদপত্র পাঠিয়ে বলা হয়েছিল, হাসপাতালের ৩০ হাজার বর্গফুট কার্যকরী এলাকা নয়। এই তথ্য অসত্য ও বিভ্রান্তিমূলক। পুরসভার প্রতিনিধিদের চিঠি ও ফোনের উপর ভিত্তি করে বহু রোগীর বিলের উপর ছাড় দেওয়া হয়। টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওই জায়গা নেওয়া হয়েছিল। নিয়ম মেনে হাসপাতাল পরিচালনা করা হয়। পুরসভার সিআইসি (স্বাস্থ্য) রামকৃষ্ণ পাল বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ২০ হাজার ৫৫১ বর্গফুট জায়গা দখলের পাশাপাশি ছাদের ৯ হাজার ৫৫৭ বর্গফুট জায়গা দখল করে ছিল। পুরসভার ইঞ্জিনিয়ারদের উপস্থিতিতে মাপজোকে তারা মোট ৩০ হাজার ১০৮ বর্গফুট জায়গা ব্যবহার করছে বলে চিহ্নিত হয়েছে। তাদের এক মাসের মধ্যে ছাদ ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। নতুন চুক্তিতে প্রতি বর্গফুট পিছু মাসিক ৭০ টাকা ভাড়া সহ অন্যান্য সিদ্ধান্ত সিআইসি মিটিংয়ে পাশ হয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে কোনও কাউন্সিলার বা সিআইসি সদস্য ওই সংস্থা থেকে ছাড় বা সুবিধা পেয়ে থাকতে পারেন। তবে তেমন কেউ সুবিধা পেয়েছেন বলে আমার জানা নেই।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ