নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিরোধীদের চাপ আর রহস্যময় এক টেলিফোন আসার পরেই বদলে গেল পরিস্থিতি। যৌথ সংসদীয় কমিটিতে শুক্রবার গৃহীত হল না রিপোর্ট। ফলে অভিযোগের ভিত্তিতে হলেও একটানা ৩০ দিন জেলে থাকলেই খারিজ মন্ত্রিত্ব, এই সংক্রান্ত সংবিধান সংশোধন বিলের খসড়া রিপোর্ট তৈরিতে আরও সময় নিলেন কমিটির চেয়ারর্পাসন বিজেপির লোকসভার সাংসদ অপরাজিতা সরঙ্গি। তিনি জানিয়েছেন, ১৩০ তম সংবিধান সংশোধন বিল নিয়ে যৌথ সংসদীয় কমিটি আরও আলোচনা হবে। তার ভিত্তিতে তৈরি হবে রিপোর্ট। ফলে এটি একপ্রকার স্পষ্ট, সোমবার থেকে শুরু হতে চলা সংসদের বাদল অধিবেশনে বিতর্কিত এই বিলটি পাশের জন্য আসছে না।
কেন বিতর্ক? কোনো গুরুত্বপূর্ণ অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা কোনো মন্ত্রী যদি একটানা ৩০ দিন জেলে থাকেন, তাহলে তিনি পদচ্যূত হবেন। তা সে দোষী সাব্যস্ত হোক বা না-হোক। সংবিধান সংশোধন করে বিষয়টির আইনি রূপ দেওয়ার জন্য ২০২৫ সালের ২০ আগস্ট বিল পেশ করে মোদি সরকার। প্রবল প্রতিবাদে বিরোধীদের দাবিতে বিলটিকে সংসদীয় যৌথ কমিটিতে পাঠানো হয়। সেই থেকে ২৮ সদস্যের এই কমিটির ১১ টি বৈঠক হয়েছে। তারই ভিত্তিতে শুক্রবার খসড়া রিপোর্ট গৃহীত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পিছু হটতে হল। বিরোধীদের মতে, মোদি সরকারের এই বিলের উদ্দেশ্যই হল, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে আইনের অপব্যহার। তাই সুপ্রিয়া সুলে, আসাদউদ্দিন ওয়েসি, নিরঞ্জন রেড্ডির মতো সাংসদরা বিলের সিংহভাগ অংশের বিরোধিতা করেন। এদিন তাঁরা ‘ডিসেন্ট নোটস’ দেবেন বলে তৈরি হয়ে আসেন। বিরোধী সাংসদদের সুপারিশ, ‘পদচ্যুত’ বা ‘মন্ত্রী পদে আর বহাল থাকবেন না’—এই শব্দগুলির পরিবর্তে ‘সাময়িক বরখাস্ত’ শব্দটি ব্যবহার করা যেতে পারে। একইভাবে কোনো রাজনৈতিক নেতা যদি ‘সাসপেন্ড’ থাকেন বা জামিনে মুক্ত থাকেন, তাহলে তিনি মন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে আদৌ কোনও আইনি সুবিধা পাবেন কি? ওঠে প্রশ্ন। বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, বিরোধীদের দাবি উড়িয়ে এদিন যখন রিপোর্ট গ্রহণ করতে উদ্যোগী হয় কমিটি, তখনই আচমকা ফোন আসে চেয়ারপার্সনের কাছে। তিনি কক্ষের বাইরে বেরিয়ে যান। তারপরই আচমকা অবস্থান বদলে জানিয়ে দেন, ঠিক আছে। এদিন এই রিপোর্ট গৃহীত হবে না। আরও বৈঠক হবে। তারপরই সিদ্ধান্ত। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন, বিরোধীদের দাবিকে মান্যতা? নাকি রহস্যময় ফোনের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত বদল? কার ফোন?