সংবাদদাতা, কান্দি: বুধবার সকালে বড়ঞা থানার কুমরাই গ্রামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু ঘিরে রহস্য দানা বেঁধেছে। মৃতার নাম অঞ্জলি মণ্ডল(৬৪)। এদিন বিছানার মধ্যেই তাঁকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁর শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। এনিয়ে মৃতার মেয়ে তাঁর মাকে মেরে ফেলা হয়েছে বলে দাবি করছেন। তিনি তাঁর দাদা ও বউদির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। পুলিস জানিয়েছে, মৃত্যুর ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে এদিন বিকেল পর্যন্ত কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া গেলে পুলিস সুয়োমোটো মামলা করবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই বৃদ্ধার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বৃদ্ধা আগে মেয়ের বাড়িতে থাকলেও প্রায় একবছর হল ছেলের বাড়িতেই থাকছিলেন। বাড়িতে ছেলে, ছেলের বউ ও ছেলের শাশুড়ি থাকতেন। মাঝে মধ্যেই বাড়িতে অশান্তি লেগে থাকত। এদিন সকালে ওই বৃদ্ধার মৃতদেহ বিছানায় পাওয়া যায়। ঘটনা জানাজানি হতেই গ্রামে চাঞ্চল্য ছড়ায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মৃতার মাথার একটি জায়গা ফুলে রয়েছে। ঠোঁট ও গলার কাছে আঘাতের চিহ্নও রয়েছে। পায়ের কাছেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
মৃতার মেয়ে চিন্তা মণ্ডল বলেন, মায়ের মাথায়, মুখে ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন দেখেই পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে তাঁকে মেরে ফেলা হয়েছে। এই ঘটনায় আমার দাদা ও বউদি জড়িত। আমার মাকে আমার কাছে আসতে দিত না। ওরা মায়ের সম্পত্তি হাতাতে চাইছিল। আমি ওদের শাস্তি চাই।
প্রায় একই বক্তব্য মৃতার জামাই সুরেন মণ্ডলের। যদিও মৃতার ছেলে পীযূষ মণ্ডল বলেন, কোনও ছেলে তার মাকে মেরে ফেলতে পারে না। আসলে আমার মা কয়েকদিন আগে বাথরুমে পড়ে গিয়ে মাথায় ও মুখে আঘাত পেয়েছিল। মঙ্গলবার ফের পরে গিয়ে পায়ে আঘাত পায়। মঙ্গলবার রাতে আমি মাকে ভালো করে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে এসেছিলাম। এদিন সকালে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই। কিন্তু, মাথার ওই আঘাত দেখে ওরা মেরে ফেলা হয়েছে বলে মনে করছে। মৃতার বউমা ঝুমা মণ্ডল বলেন, আসলে ননদ কিছু না বুঝেই আমাদের দিকে আঙুল তুলছে। আমার শাশুড়ি ও নিজের মায়ের সেবায় কোনও পার্থক্য করিনি। আমরা কাউকে মারিনি।