বিশেষ সংবাদদাতা, আগরতলা: ত্রিপুরার পুলিশের ডিজিপি অনুরাগ ধনকরের রহস্যজনক মৃত্যু। সোমবার আগরতলায় পুলিশের সদর দপ্তরে নিজের ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলেই অনুমান পুলিশের। সদর দপ্তর থেকে ডিজিপির দেহ ময়নাতদন্তের জন্য আগরতলার জিবি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ প্রধানের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্য প্রশাসনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছান ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। নমুনা সংগ্রহের পাশাপাশি প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছেন তাঁরা। পুলিশ সূত্রে খবর, ব্যক্তিগত বা পেশাগত সব দিকই খতিয়ে দেখা হবে। মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা সমাজমাধ্যমে জানান, ডিজিপির দেহ তাঁর অফিস চেম্বারের বাথরুম থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে।
ডিজিপির মৃত্যুর খবর শুনে হাসপাতালে ছুটে যান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিআইএম নেতা মানিক সরকার এবং বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী। অভিযোগ, প্রথমে তাঁদের হাসপাতালে ডিজিপিকে দেখতে বাধা দেয় পশ্চিম জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ। কোনোমতে সেখানে গিয়ে তাঁরা ডিজিপির পরিবারের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন। বিরোধী দলনেতা জিতেন্দ্র চৌধুরী বলেন, ‘গত সাড়ে আট বছর ধরে ত্রিপুরায় যে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে, এই মৃত্যু তারই প্রতিফলন।’ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার বলেন, ‘রাজ্য পুলিশের সর্বোচ্চ পদে থাকা একজন আধিকারিকের ডিউটিরত অবস্থায় মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক ও উদ্বেগজনক। অনুরাগ ধনকর একজন অসাধারণ অফিসার ছিলেন। ঠিক কীভাবে এই ঘটনা ঘটেছে, তা সামনে আসা উচিত।’ উল্লেখ্য, অনুরাগ ধনকর ১৯৯৪ ব্যাচের ত্রিপুরা ক্যাডারের আইপিএস আধিকারিক ছিলেন। ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি ত্রিপুরার ডিজিপি হিসাবে দায়িত্ব নেন। এর আগে তিনি ডিজিপি (ইন্টেলিজেন্স) পদে কর্মরত ছিলেন। তিন দশকেরও বেশি সময়ের কর্মজীবনে তিনি ত্রিপুরা পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।