Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রহস্যমৃত্যু! গল্ফগ্রিনের আবাসনে যুগলের দেহ

জোড়া রহস্যমৃত্যু! গল্ফগ্রিনের অরবিন্দ নগরে এক আবাসনের তিনতলার ফ্ল্যাট থেকে রবিবার দুপুরে দু’জনের দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁরা হলেন মহম্মদ দিলশাদ  (২৬) ও মেহুলি সান্যাল  (২২)।

রহস্যমৃত্যু! গল্ফগ্রিনের আবাসনে যুগলের দেহ
  • ১ জুন, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জোড়া রহস্যমৃত্যু! গল্ফগ্রিনের অরবিন্দ নগরে এক আবাসনের তিনতলার ফ্ল্যাট থেকে রবিবার দুপুরে দু’জনের দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁরা হলেন মহম্মদ দিলশাদ  (২৬) ও মেহুলি সান্যাল  (২২)। পুলিশ জানতে পেরেছে, মেহুলি দিলশাদের গার্লফ্রেন্ড। ওই ফ্ল্যাট থেকে এক তরুণ ও তরুণীকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, শনিবার রাতভর খানাপিনা, হুল্লোড় চলছিল। সেই সময় দেদার মদ্যপান ও অত্যধিক মাদক সেবনের ফলেই দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। 

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গল্ফগ্রিনের ওই ফ্ল্যাটটি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ভাড়া নেন দিলশাদ। তিনি নিজেকে তিলজলার বাসিন্দা বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। ফ্ল্যাটের মালিক সজল সরকার জানান, ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়ার সূত্রেই দিলশাদের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। পছন্দ হওয়ার পর মাসে ছ’হাজার টাকার বিনিময়ে সেটি ভাড়া নেন দিলশাদ। তিনি যে আধার কার্ডের প্রতিলিপি মালিকের কাছে জমা দিয়েছিলেন, সেখানেও তাঁকে তিলজলার বাসিন্দা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ ফ্ল্যাট থেকে দুর্গন্ধ পান প্রতিবেশীরা। খবর দেওয়া হয় গল্ফগ্রিন থানায়। পুলিশ এসে দরজায় কড়া নাড়ে। দীর্ঘক্ষণ কারও সাড়া পাওয়া যায়নি। সজোরে ধাক্কা দিতেই দরজা খুলে যায়। পুলিশ অফিসাররা দেখেন, এক তরুণী টলতে টলতে এগিয়ে আসছিলেন দরজার দিকে। ফ্ল্যাটের ভিতরে ঢুকে পুলিশ দেখে, এক তরুণীর নগ্ন দেহ প঩ড়ে রয়েছে বিছানায়। তাঁর পাশে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছেন এক যুবক। পরনে কেবল অন্তর্বাস। কিছুটা দূরে আচ্ছন্ন অবস্থায় আরও এক তরুণের দেখা মেলে। ঘরের চারদিকে ছড়িয়ে মদের বোতল। ঝিমোতে থাকা তরুণ-তরুণীকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, মেহুলির বাড়ি রামগড়ে। সোশ্যাল মিডিয়ার সূত্রে তাঁর সঙ্গে দিলশাদের পরিচয়। পরে তাঁরা সম্পর্কে জড়ান। লিভ-ইন করতেন। আটক হওয়া তরুণ-তরুণীরও যাতায়াত ছিল এই ফ্ল্যাটে। নিয়মিত হইহুল্লোড়, খানাপিনার আয়োজন করতেন দিলশাদ। সেখানে মেহুলি ছাড়াও একাধিক তরুণ-তরুণী হাজির থাকতেন। শনিবার উইক-এন্ডে পার্টিতে ওই তরুণ-তরুণীকে ডেকে পাঠান দিলশাদ। সেখানে আগে থেকেই ছিলেন মেহুলি। মদ ও মাদক একসঙ্গে নেওয়া চলতে থাকে। আটক দু’জনের দাবি, কোকেন জাতীয় মাদক সেবন করেছিলেন তাঁরা। কেউই সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় ছিলেন না। তাই তাঁরা বুঝতে পারেননি, কীভাবে মৃত্যু হল দিলশাদ ও মেহুলির। তবে তাঁরা জানিয়েছেন, দু’জনের মধ্যে ওই রাতে শারীরিক সম্পর্কও হয়েছিল। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ