Bartaman Logo
১৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

মায়ানমারের ভূমিকম্পের শক্তি ৩৩৪টি পরমাণু বোমার সমান!

শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত মায়ানমার। ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প ও একের পর এক আফটার শকের ধাক্কা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি সেখানকার বাসিন্দারা। ধ্বংসস্তূপ হাতড়ে চলছে উদ্ধারের কাজ।

মায়ানমারের ভূমিকম্পের শক্তি ৩৩৪টি পরমাণু বোমার সমান!
  • ৩১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নেপি দ: শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত মায়ানমার। ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প ও একের পর এক আফটার শকের ধাক্কা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি সেখানকার বাসিন্দারা। ধ্বংসস্তূপ হাতড়ে চলছে উদ্ধারের কাজ। মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৭০০। জখম প্রায় সাড়ে তিন হাজার জন। এরইমধ্যে স্থানীয়দের বুকে কাঁপন ধরিয়ে ফের দুলে উঠল মাটি। রবিবার বিকেলে মায়ানমারের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়ে আফটার শক আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.১। এরইমাঝে উঠে এল চমকে দেওয়ার মতো এক তথ্য। গত শুক্রবারের ভূমিকম্পে যে পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন হয়েছে, তা প্রায় ৩৩৪টি পরমাণু বোমার সমান। রবিবার এমনই জানালেন মার্কিন ভূতত্ত্ববিদ জেস ফোনিক্স।

Advertisement

ভূমিকম্প পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়েও সতর্ক করে দিয়েছেন ফোনিক্স। তিনি বলেছেন, বিপদ কিন্তু এখনও কাটেনি।  ভূমিকম্প পরবর্তী কম্পন অর্থাৎ আফটার শক আগামী কয়েকমাস পর্যন্ত চলতে পারে। মায়ানমারের নীচেই রয়েছে ভারতীয় টেকটোনিক প্লেট ও ইউরেশিয়ান টেকটোনিক প্লেট। মূলত এই দু’টি প্লেটের মধ্যে সংঘর্ষের জেরেই ভূমিকম্প হয়েছে। এই সংঘর্ষের জেরে প্রায় ৩৩৪টি পরমাণু বোমার সমান শক্তি তৈরি হয়। আগামী দিনেও দুটি প্লেটের সংঘর্ষ জারি থাকতে পারে। ফলে যে কোনও সময়ই ফের বিপর্যয় আসতে পারে। 
গত শুক্রবারের ভূমিকম্পের পর মায়ানমারের পরিস্থিতি এখনও ভয়াবহ। চারিদিকে ঘরবাড়ির ধ্বংসস্তূপ। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধার কাজ। এখনও নিখোঁজ বহু। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা। এর পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭। পড়শি দেশের এমন অস্থির পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে ভারত। তাঁবু, স্লিপিং ব্যাগ, কম্বল, হাইজিন কিট, সোলার ল্যাম্প সহ নানা ত্রাণ সামগ্রী পাঠানো হয়েছে মায়ানমারে। 
শুক্রবারে মায়ানমারের ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল মান্দালয়ের কাছে। প্রথম কম্পনের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ৬.৪ মাত্রার আফটার শক আঘাত হানে। তারপর আরও চারটি। কার্যত বেনজির এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে মায়ানমারের বাড়ি-ঘর, রাস্তা, সেতু, হাসপাতাল কোনওকিছুই রক্ষা পায়নি। 
এদিকে থাইল্যান্ডের ব্যাঙ্ককে নির্মীয়মাণ বহুতলের ধ্বংসাবশেষে এখনও আটকে রয়েছেন বহু শ্রমিক। তাদের উদ্ধারে রোবট, বড় মাপের অত্যাধুনিক মেশিন ও ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। কমপক্ষে প্রায় ৫০ জন আটকে রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে আমেরিকার বিশেষ সেনাবাহিনী। ভগ্নস্তূপের ঠিক কোথায় আটকে রয়েছেন শ্রমিকরা, তা জানতে রোবট পাঠানোর পাশাপাশি থ্রিডি ম্যাপিং করা হচ্ছে। বিশেষ ক্যামেরার সাহায্যে ভিতরের ছবি সংগ্রহ করার চেষ্টাও চলছে। তবে এখনও কারও কোনও সাড়া মেলেনি। ব্যাঙ্ককে ভূমিকম্পে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চাতু চাক বাজার। এখানে প্রায় ৫০০-৬০০ বহুতল হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে। পুরো এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। ব্যাঙ্ককেও মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ