Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

‘বাবার সঙ্গে আমার গল্প বলার ধরনে মিল নেই’

অভিনয় আগেও করেছেন। তবে পরিচালক হিসেবে কাজ প্রথমবার। সেখানে অ্যানিমেশনকে বেছে নিয়েছেন উজান গঙ্গোপাধ্যায়। নেটফ্লিক্সের বহুল সমাদৃত অ্যানিমেশন সিরিজ ‘কুরুক্ষেত্র’-এর পরিচালক তিনি।

‘বাবার সঙ্গে আমার গল্প বলার ধরনে মিল নেই’
  • ২০ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অভিনয় আগেও করেছেন। তবে পরিচালক হিসেবে কাজ প্রথমবার। সেখানে অ্যানিমেশনকে বেছে নিয়েছেন উজান গঙ্গোপাধ্যায়। নেটফ্লিক্সের বহুল সমাদৃত অ্যানিমেশন সিরিজ ‘কুরুক্ষেত্র’-এর পরিচালক তিনি। ছোট থেকেই কার্টুনের প্রতি ঝোঁক ছিল তাঁর। ‘কার্টুন আঁকা শখ ছিল আমার। ছোটবেলায় আঁকতাম। সেই কারণে ধারণা ছিল কীভাবে অ্যানিমেশনের কাজটা করতে হয়’, বলছিলেন নতুন পরিচালক। ২০২২-’২৩ সালে ‘কুরুক্ষেত্র’ প্রজেক্টটির জন্য কথাবার্তা শুরু হয়। প্রথমে লেখার দায়িত্ব ছিল উজানের। এরপর আসে পরিচালনা। উজান বলছিলেন, ‘যেহেতু লেখার সঙ্গে পরিচালনার একটা যোগ রয়েছে, তাই হয়তো প্রস্তাব এসেছিল।’ অ্যানিমেশন কি সিনেমা পরিচালনার থেকে কঠিন? বললেন, ‘সিনেমা তো এখনও পরিচালনা করিনি, বলতে পারব না। তবে অ্যানিমেশনের চিত্রনাট্যে খুঁটিনাটি তথ্য দরকার হয়।’ এই সিরিজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন গুলজার, নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ির মতো ব্যক্তিত্ব। তাঁদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন? উজান বললেন, ‘সমৃদ্ধ হয়েছি। ওঁরা আমার স্ক্রিপ্ট পড়েছেন, সেটাই গায়ে কাঁটা দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।’
মহাভারত নিয়ে বহু কাজ আগেও হয়েছে। তুলনার ভয় পাননি? পরিচালকের জবাব, ‘আমরা স্বাধীন একটা কাজ করতে চেয়েছিলাম। তাই তুলনার প্রসঙ্গ আসেনি। মহাভারতের মতো মহাকাব্যে যত স্তর রয়েছে, তাকে একটা প্রজেক্টে তুলে ধরা কঠিন। আগে হয়নি, তা নয়। তবে আমরা এমন কিছু করতে চেয়েছিলাম যাতে আরও বিস্তারিত ভাবে দেখানো যায়। সে জন্যই সচেতনভাবে ‘কুরুক্ষেত্র’ নামটা দেওয়া।’ 
বর্তমানে নেটফ্লিক্সের ট্রেন্ডিং সিরিজের তালিকায় থাকা এই সিরিজ নির্মাণের নেপথ্যে রয়েছেন কলকাতার অ্যানিমেশন শিল্পীরা। ‘প্রায় গোটা টিমটাই বাঙালি। দু’তিন বছর ছ’শো থেকে সাতশো জনের সঙ্গে কাজ করেছি। তাঁদের সঙ্গে দারুণ সম্পর্ক তৈরি হয়ে গিয়েছে’, বললেন উজান। তাঁর মতে বেঙ্গালুরু, মুম্বইয়ের মতো কলকাতাতেও দক্ষ অ্যানিমেটর, স্টোরিবোর্ড আর্টিস্ট রয়েছেন, তাঁরা দেশের মাটিতে কাজ পেলে ইন্ডাস্ট্রির উন্নতি। বাংলার বহু টেকনিশিয়ান থাকলেও সিরিজটি বাংলায় ডাবিং করা হয়নি, এমনকী বাংলায় কোনও সাবটাইটেলও নেই কেন? উজান বলেন, ‘আমরা অবশ্যই চেয়েছিলাম, বাংলাতেও কাজটা হোক। প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। তবে এটা সম্পূর্ণ ওটিটি সংস্থার ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত। তারা পরবর্তীকালে বের করবেন কি না, সেটাও জানি না।’  
ভবিষ্যতে সিনেমা পরিচালনার ক্ষেত্রে বাবা কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের থেকে পরামর্শ নেবেন? হেসে উজান বললেন, ‘মানুষের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করার যে ক্ষমতা, বাবার সেটা দুর্ধর্ষ। আমি শিখি। তবে বাবা যেভাবে গল্প বলেন, আমার সঙ্গে সেই গল্প বলার ধরন হয়তো মিলবে না। আমি অন্যভাবে গল্প বলতে চাই।’ আর বাংলায় কাজ? জানালেন, ‘শীঘ্রই হবে।’  

Advertisement


শান্তনু দত্ত

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ