সংবাদদাতা, রানাঘাট: নাম নেই ভোটার লিস্টে। ট্রাইবুনালে ও সিএএতে আবেদন করেও ওঠেনি নাম। এবার রেশনের তালিকা থেকে নাম বাদ গেল শান্তিপুর থানা এলাকার বড়জিয়াকুড় গ্রামের একটি পরিবারের।
সংবাদদাতা, রানাঘাট: নাম নেই ভোটার লিস্টে। ট্রাইবুনালে ও সিএএতে আবেদন করেও ওঠেনি নাম। এবার রেশনের তালিকা থেকে নাম বাদ গেল শান্তিপুর থানা এলাকার বড়জিয়াকুড় গ্রামের একটি পরিবারের।
নদীয়ার শান্তিপুর থানা এলাকার বড় জিয়াকুড় গ্রামের বাসিন্দা মিঠুন সরকার। বাড়িতে বাবা, মা, দাদা সহ মোট চারজন সদস্য। চারজনেরই ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ গিয়েছে। ট্রাইবুনালে আবেদন, এমনকী সিএএ তে আবেদন করেও ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারেননি তিনি। আর এবার আচমকাই রেশনের তালিকা থেকেও বাদ পড়ল তাদের গোটা পরিবারের নাম। পেশায় ফুলিয়ায় প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের অস্থায়ী কর্মী, ৩০ বছর বয়সি মিঠুন সরকারের বাবা কৃষক, মা গৃহবধূ এবং দাদা বাড়ির কাছেই একটি ছোট খাবারের দোকান চালান। এদিন আর পাঁচটা দিনের মতোই রেশন দোকানে রেশন তুলতে গিয়েছিলেন মিঠুনবাবু। কিন্তু রেশন দোকানে গিয়ে আঙুলের ছাপ দিতেই দেখা যায় বায়োমেট্রিক মেশিনে তার বা তার পরিবারের কোনো সদস্যের নাম দেখাচ্ছে না। রেশন দোকান থেকে তাঁকে বলা হয়, তাঁর পরিবারের নাম রেশন তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই বিষয়ে বিডিও অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তারপরই তিনি ট্রাইব্যুনালে আবেদন এবং সিএএতে আবেদনের সমস্ত নথিপত্র নিয়ে তড়িঘড়ি শান্তিপুর বিডিও অফিসে ছোটেন। কিন্তু সেখানে গিয়েও মেলেনি কোনো আশা। মিঠুন সরকার জানান, বিডিও অফিস থেকে আমাকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, যেদিন ভোটার লিস্টে নাম উঠবে সেই দিন থেকেই আবার রেশন পাওয়া যাবে। তার আগে কিছু করার নেই।’ পাশাপাশি এদিন শান্তিপুর বিডিও অফিসে ভোটার লিস্টে যাঁদের নাম নেই, ট্রাইবুনালে ও সিএএতে আবেদন করেছেন এরকম প্রচুর মানুষকে রেশন কার্ডের নথি জমা দেওয়ার জন্য লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ফুলিয়া স্টেশনপাড়া এলাকার আনুমানিক পঞ্চান্ন বছর বয়সি সুজিত শর্মা জানান, ভোটার লিস্টে তাঁর নাম নেই। কিছুদিন আগে ট্রাইবুনালে আবেদন করেছেন, সিএএতে আবেদন করেননি। কিন্তু ভবিষ্যতে যদি রেশন দেওয়া বন্ধ করে দেয়, সেই আতঙ্কে সমস্ত নথি নিয়ে বিডিও অফিসে জমা দিতে এসেছি।