Bartaman Logo
১৮ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাটোয়ায় বহু ফ্ল্যাটের মিউটেশন করানো হয়নি, নোটিস ধরাচ্ছে পুরসভা

কাটোয়া শহরে ফ্ল্যাটের চাহিদা ক্রমশ বাড়ায় একের পর এক বহুতল গড়ে উঠছে। মিউটেশন ছাড়াই শহরে ফ্ল্যাট কেনাবেচা হচ্ছে।

কাটোয়ায় বহু ফ্ল্যাটের মিউটেশন করানো হয়নি, নোটিস ধরাচ্ছে পুরসভা
  • ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়া শহরে ফ্ল্যাটের চাহিদা ক্রমশ বাড়ায় একের পর এক বহুতল গড়ে উঠছে। মিউটেশন ছাড়াই শহরে ফ্ল্যাট কেনাবেচা হচ্ছে। অনেকে আবার কমপ্লিশন সার্টিফিকেট না নিয়েই অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি করে দিচ্ছে। মিউটেশন করার জন্য এবার বহুতলের বাসিন্দাদের নোটিস ধরাল পুরসভা। মিউটেশন না করলে কোনো পুর পরিষেবা পাবেন না বহুতলের বাসিন্দারা। পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার চঞ্চলকুমার মণ্ডল বলেন, বহুতলের মালিকদের নোটিস দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দারা যেন পুরসভায় এসে মিউটেশন করিয়ে নেন। 

Advertisement

চাহিদা বাড়ায় শহরে জায়গার দাম বাড়ছে। বহুতল নির্মাণও বাড়ছে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ৪নম্বর ওয়ার্ডে ৫টি, ৫নম্বর ওয়ার্ডে একটি, ৭নম্বর ওয়ার্ডে দু’টি, ১০নম্বর ওয়ার্ডে দু’টি, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে দু’টি, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে একটি, ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে একটি, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে একটি বহুতল রয়েছে। এরমধ্যে দু’-তিনটি বহুতল এখনও নির্মীয়মাণ অবস্থায় রয়েছে। ইতিমধ্যেই পাঁচটি বহুতলের মালিককে মিউটেশন করানোর জন্য নোটিস ধরানো হয়েছে। শহরের ৪, ৫, ১২, ১৩ ও ১৮নম্বর ওয়ার্ডে ওই বহুতলগুলি রয়েছে। বহুতলগুলিতে প্রায় ১৫০টি পরিবার বসবাস করছে। তারা মালিকদের কাছ থেকে অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছে, কিন্তু এতদিন মিউটেশন না করানোয় নানা প্রশ্ন উঠছে। তাঁরা কার ‌ইশারায় পুরসভার মিউটেশন বিভাগের ধারেকাছে যাননি তা নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে। পুরসভার এক কর্মী জানান, নোটিস ধরাতে গিয়ে দুই বহুতল মালিক আবার তা নেননি।
বেশ কয়েকটি বহুতল আবার কমপ্লিশন সার্টিফিকেট নেয়নি। বহুতলের কাজ শেষ হওয়ার পর তা পুরসভার কাছে নিতে হয়। পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা নিয়ম মেনে হয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখেন। ইঞ্জিনিয়ারদের দেওয়া নকশা মেনে হয়েছে কিনা তা তাঁরা বহুতলগুলিতে গিয়ে পরীক্ষা করবেন। তারপর বোর্ড অব কাউন্সিলারের বৈঠকে জানাতে হয়। সেখান থেকে সবুজ সংকেত দিলেই সেই বহুতলকে সিসি সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশিরভাগ বহুতলই সিসি সার্টিফিকেট নেয়নি। শহরে মাত্র পাঁচটি বহুতলকে সিসি সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে। বাকি বেশিরভাগ বহুতল সিসি সার্টিফিকেট ছাড়াই বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
সিসি সার্টিফিকেট ছাড়াই কীভাবে ফ্ল্যাট বিক্রি হল তা নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে। ওয়েস্ট বেঙ্গল রিয়েল এস্টেট রেগুলেটরি অথরিটি বা ডব্লুআরইআরএ নামে রাজ্য সরকারের পোর্টালে তথ্য দিতে হয় বহুতলগুলিকে। ছ’টির বেশি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে এমন বহুতলগুলিতে ওই পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। জমির মালিকানা ও বিবরণ, প্রয়োজনীয় বিল্ডিং প্ল্যান, ফ্লোর প্ল্যান বা ফ্ল্যাটের সুবিধাগুলিও জানিয়ে ওই পোর্টালে নথিভুক্ত করতে হয়। প্রকল্পের এজেন্টদেরও তথ্য দিতে হয়। ফ্ল্যাট কেনার আগে ক্রেতারা এসব তথ্য দেখেন। কাটোয়ার সমস্ত বহুতলের তথ্য ওই পোর্টালে রয়েছে কিনা প্রশ্ন তুলছেন বাসিন্দারা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ