সংবাদদাতা, লালবাগ: পুজোর মরশুম শুরু হতেই সাবেক নবাবি তালুক মুর্শিদাবাদের দর্শনীয় স্থানগুলিতে ধারাবাহিকভাবে পর্যটকদের ভিড় লেগেই রয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হাজারদুয়ারি প্যালেস মিউজিয়াম, ওয়াসিফ মঞ্জিল, কাটরা মসজিদ, কাঠগোলাপ বাগান, মোতিঝিল সহ দর্শনীয় স্থানগুলি পর্যটকদের ভিড়ে সরগরম থাকছে। শহরের বেশ কিছু হোটেলের অধিকাংশ ঘর ইতিমধ্যে দীপাবলি পর্যন্ত বুকিং রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন পেশার মানুষের মুখে চওড়া হাসি। চলতি বছরে পুজোর মরশুমের শুরু থেকেই পর্যটকদের ভিড় থাকায় স্বস্তির হাওয়া পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন মহলে। তাদের দাবি, শীতের মরশুমে পর্যটকদের ভিড় উপচে পড়বে মুর্শিদাবাদে।
মোতিঝিলের এক কর্মী বলেন, গত এক সপ্তাহ থেকে ভালো পর্যটক সমাগম হচ্ছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় চার হাজার টিকিট বিক্রি হচ্ছে। হাজারদুয়ারি প্যালেস মিউজিয়ামের এক কর্মী বলেন, পুজোর পাঁচদিনে কুড়ি হাজারের বেশি টিকিট বিক্রি হয়েছে। আগামী দিনেও পর্যটক সমাগম বাড়বে।
হাজারদুয়ারি প্যালেস মিউজিয়াম, মোতিঝিল, কাটরা মসজিদ, কাঠগোলাপ বাগান প্রভৃতি দর্শনীয় স্থানগুলির টানে সারা বছর ধরে মুর্শিদাবাদে দেশ-বিদেশের পর্যটকরা আসেন। নবাবের শহরের পর্যটনের উপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কয়েক হাজার পরিবারের রুজিরুটি নির্ভর করে। শহরের এক হোটেল ব্যবসায়ী স্বপন দাস বলেন, পঞ্চমী থেকে অধিকাংশ ঘর বুকিং রয়েছে। দীপাবলি পর্যন্ত ভালো ব্যবসা হবে বলে আশা করছি। পাশাপাশি শীতের মরসুমে ঘরের জন্য পর্যটকরা এখন থেকেই ফোন করছেন। লালবাগ টাঙা ইউনিয়নের সম্পাদক মনু শেখ বলেন, মার্চে শীতের মরশুম শেষ হতেই এখানকার পর্যটন ব্যবসায় মন্দা শুরু হয়। ফলে টাঙ্গা চালকদের চরম আর্থিক অনটনের মধ্যে দিন গুজরান করতে হয়েছে। পুজোর মরশুম শুরু হতেই পর্যটকরা আবার মুর্শিদাবাদমুখী হওয়ায় পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করেছে। পুজো থেকে টানা দর্শনীয় স্থানগুলিতে ভালো ভিড় হচ্ছে। শীতের মরশুমেও প্রচুর পর্যটক সমাগম হবে বলে আশা করছি।
কাটরা মসজিদের সামনে ঘর সাজানোর দোকান রয়েছে মোশারফ আলির। তিনি বলেন, এবছর পুজোর আগে থেকে ভালো বেচাকেনা হচ্ছে। মুর্শিদাবাদ জেলা হেরিটেজ অ্যান্ড কালচারাল ডেভলপমেন্ট সোসাইটির সম্পাদক স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, প্রত্যাশামতো পুজোর মরসুমে পর্যটকদের ভিড় হচ্ছে। প্রতিদিন ট্রেনের পাশাপাশি বাস ও ছোট গাড়িতে পর্যটকরা আসছেন। মূলত পুজোর মরসুমের মধ্য দিয়ে শীতের মরশুমের ঘণ্টা বেজে বেজে যায়। -নিজস্ব চিত্র



