Bartaman Logo
১৮ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আজ শিল্প সম্মেলন, রেজিনগর শিল্প তালুক নিয়ে আলোচনার দাবি

রাজ্যে পালাবদলের পর মঙ্গলবার জেলা শিল্প সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক ভাবে জেলার ছোট থেকে বড় সমস্ত শিল্পপতিদের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা ও আগামীর পরিকল্পনা করবে জেল প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা।

আজ শিল্প সম্মেলন, রেজিনগর শিল্প তালুক নিয়ে আলোচনার দাবি
  • ১৮ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে শিল্প তালুকের জন্য নির্ধারিত বিশাল জায়গা। ঝোপ জঙ্গলের মধ্যে উঁকি মারছে রেজিনগর শিল্পতালুক লেখা সাইন বোর্ড। প্রবেশপথের লোহার দু’টি গেটে মরচে ধরেছে। স্বপ্ন ছিল ১৮৩ একর জমির উপরে এই শিল্পতালুকে ‘ই বাস’ কারখানা গড়ে উঠবে। একাধিক বহুজাতিক সংস্থার ওয়্যার হাউস হবে, স্থানীয় বাসিন্দাদের কর্মসংস্থান হবে। গত ১৬ বছরে সেখানে দু’-একটি ছোটোখাটো বিল্ডিং ও একটি ছোট স্টিল কারখানা ছাড়া শিল্পতালুকে সেভাবে কিছুই গড়ে ওঠেনি। এমনকী কম দামে জমি দেওয়ার ব্যাপারেও বিগত সরকার ও  জেলা প্রশাসন উদ্যোগী হয়েছিল। কিন্তু ব্যবসায়ীরা সেভাবে আগ্রহ দেখায়নি। কাজেই জাতীয় সড়কের ধারে এই বিশাল ফাঁকা এলাকায় শিল্প তালুকের ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। 

Advertisement

রাজ্যে পালাবদলের পর মঙ্গলবার জেলা শিল্প সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক ভাবে জেলার ছোট থেকে বড় সমস্ত শিল্পপতিদের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা ও আগামীর পরিকল্পনা করবে জেল প্রশাসনের শীর্ষ কর্তারা। এই সম্মেলনেই রেজিনগর শিল্প তালুক নিয়ে আশার কথা শুনতে উদগ্রীব স্থানীয় বাসিন্দারা। বহরমপুর সদর থেকে বেলডাঙা হয়ে রেজিনগর। রেলপথে পৌঁছনো সহজ। তবে সড়কপথে কঠিন। কারণ ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক বেশ কিছু অংশ সিঙ্গল লেনের। সেখানে কাজ চললেও সড়কপথে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে মানুষকে। বিগত কয়েক বছর ধরে বেলডাঙা ও রেজিনগর এলাকায় যানজট হচ্ছে। ফলে শিল্পে গতি আনার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতে পারে এই বেহাল সড়ক। তবে রেজিনগর ও পার্শ্ববর্তী বেলডাঙার বাসিন্দার আশা করছেন, যাতে এখানে শিল্প তালুকে মাঝারি ও ভারী শিল্প গড়ে ওঠে। 
রেজিনগরের বাসিন্দা ইমরান হোসেন বলেন, এখানে জাতীয় সড়কের পাশে প্রচুর জমি। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো, জল নিকাশের ব্যবস্থা রয়েছে, বিদ্যুৎ রয়েছে। তারপরেও কেন কোনো ভারী শিল্প গড়ে উঠছে না এটা আমরা জানি না। বছরখানেক আগে জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে বেশ ভালো উদ্যোগ নেওয়া হল। শিল্প তালুকের জমি ভর্তুকি দিয়ে প্রাইভেট কোম্পানি বা ছোট-বড় ও মাঝারি শিল্পোদ্যোগীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এখানে এসে শিল্পপতিরাও জমি দেখছিল। মাপজোক চলছিল। কিন্তু তারপর হঠাৎ বিষয়টি থমকে গিয়েছে। মরাদিঘির বাসিন্দা রহমত উল্লাহ খান বলেন, আমরা চাই এখানে ভালো শিল্প আসুক। তাহলে এলাকার যুবক যুবতীরা কাজের সুযোগ পাবে। এখানে গ্রামের মাঠে চাষাবাদ করা ছাড়া তেমন কোনো কাজ নেই। তাই বাইরে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজে যেতে হয়। জেলা প্রশাসন এবং জেলার শিল্প উদ্যমীদের কাছে একটাই অনুরোধ, আপনারা রেজিনগরে শিল্প আনতে পুনরায় ভাবনাচিন্তা করুন।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ