নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: এ যেন কোনও ক্রাইম সিরিজের চিত্রনাট্য। ৭ আগস্ট রাতে নদীয়া থেকে তিন দুষ্কৃতী পুরনো একটি বাইক চালিয়ে চলে আসে মেমারি থানার পাল্লায়। তারা বাইরে বাইক রেখে সোজা ঢুকে যায় এক ব্যক্তির গ্যারেজে। সেখানে থাকা প্রায় দু’লক্ষ টাকার দামি বাইক নিয়ে চম্পট দেয়। তার আগে তাদের লজঝড়ে বাইকটি ওই ব্যক্তির গ্যারেজে রেখে যায়। বাইক মালিক থানায় অভিযোগ করেন। চুরির ঘটনার সিসি ক্যামেরার ফুটেজও জমা দেন। তারপরও তদন্ত তেমন গতি পায়নি। শুক্রবার হঠাৎ করেই ওই ব্যক্তিকে ফোন করে শান্তিপুর থানার পুলিস জানতে চায়, আপনার বাইক কোথায়? তিনি বলেন, ‘স্যার ৭ আগস্ট বাইক চুরি হয়ে গিয়েছে। থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। তার কাগজও রয়েছে’। এরপরই ফোনের ওপার থেকে জানানো হয়, আপনার বাইকে নিয়ে দুষ্কৃতীরা এক যুবককে খুন করেছে। আপনি বাইকের নথি পাঠান। একথা শুনে বাইক মালিকের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৮ আগস্ট নদীয়ার শান্তিপুরের সাহেবডাঙা মিদ্দেপাড়ার বাসিন্দা হাসিম মণ্ডল নামে এক যুবকের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের লোকজন থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। ওই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিস সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পায়। তাতে দেখা যায়, পাল্লায় চুরি যাওয়া বাইক চালিয়ে দুষ্কৃতীরা চলে যাচ্ছে। পুলিস খুনের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। দুষ্কৃতীরা ওই বাইক ব্যবহার করে আরও অপরাধমূলক কাজ করে থাকতে পারে।
পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, একই কায়দায় কয়লা মাফিয়া রাজু ঝাঁকেও হত্যা করা হয়েছিল। শ্যুটাররা দিল্লিতে গাড়ি চুরি করে। সেই গাড়ি চড়ে এসে শক্তিগড়ে রাজুকে হত্যা করেছিল। এক পুলিস আধিকারিক বলেন, বাইক বা অন্য কোনও গাড়ি চুরি করলে তৎক্ষণাৎ থানায় জানানো উচিত। তা না হলে ওই গাড়ি ব্যবহার করে বড় কোনও অপরাধ হলে মালিককেও কৈফয়ত দিতে হবে। অনেক সময় বাইক চুরি করার পর দুষ্কৃতীরা নম্বর প্লেট বদল করে দেয়। কিন্তু আরও বেশকিছু নমুনা তারা নষ্ট করতে পারে না। সেই সূত্রেই গাড়ির মালিকের নাম খুব সহজেই জানা যায়। পুলিস সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, পাল্লার বাসিন্দা ওই ব্যক্তির গাড়ি চুরি করার পর তারা নদীয়ায় চলে যায়। চুরির আগে তারা দিনের আলোয় রেইকি করে যায়। সিসি ক্যামেরা থাকায় প্রতিটির দুষ্কৃতীর ছবি ক্যামেরা বন্দি হয়েছিল। এই দুষ্কৃতী গ্যাংটি এর আগে জেলায় কোনও অপরাধ করেছে কি না, তা আধিকারিকরা খতিয়ে দেখছেন। বাইকের মালিক বলেন, এতদিন আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। এবার মনে হয় বাইকটি ফিরে পাব। পুলিস নথি পাঠাতে বলেছে। তা পাঠিয়ে দেব।