নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বুধবার সকালে এক যুবকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হল ঘরের ভিতর থেকে কম্বল জড়ানো অবস্থায়। ঘটনাটি মাটিয়া থানার অন্তর্গত নগরকচুয়া বাজার এলাকার। মৃতের নাম মোয়াজ্জেম হোসেন (২৬)। মৃতের শরীরের একাধিক জায়গায় রয়েছে আঘাতের চিহ্ন। পাশাপাশি যৌনাঙ্গেও ক্ষত রয়েছে বলে দাবি স্থানীয় ও পরিজনদের। ঘটনাকে ঘিরে দিনভর উত্তেজনা ছিল এলাকায়। খুনের অভিযোগে মৃতের স্ত্রী মণিরা বিবিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দু’বছর আগে প্রতিবেশী গৃহবধূ মণিরা বিবির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে মোয়াজ্জেম হোসেনের। এরপর তাঁরা বিয়েও করেন। বছর দু’য়ের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। তা নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। তবে, সম্প্রতি অশান্তি কিছুটা কমেছিল। মোয়াজ্জেমের মৃত্যুর সঙ্গে সেই অশান্তির সম্পর্ক রয়েছে বলে সন্দেহ করছেন অনেকেই।
বুধবার সকাল ১১টা পেরিয়ে গেলেও বাড়ি থেকে বের হয়নি মোয়াজ্জেম। তাকে না দেখে সন্দেহ হয় পড়শিদের। স্ত্রী মণিরাকে জিজ্ঞাসা করলেও সদুত্তর মেলেনি। স্থানীয়রা বাড়িতে ঢুকে দেখেন, ঘরে কম্বল জড়ানো অবস্থায় খাটে পড়ে রয়েছেন মোয়াজ্জেম। তাঁর শরীরে রয়েছে বেশ কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন। তা থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। শুধু তাই নয়, মোয়াজ্জেমের যৌনাঙ্গ থেকেও রক্তক্ষরণ হচ্ছে। মৃতের ভাই হাবিবুল্লাহ হোসেন বলেন, ভাইয়ের স্ত্রীর এর আগে দু’বার বিয়ে হয়েছিল। এটা ছিল তৃতীয় বিয়ে। কিন্তু কি কারণে ওঁকে খুন করা হল, আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। দাদার শরীরে একাধিক জায়গায় রক্ত লেগেছিল আঘাতেরও দাগ দেখেছি। ওঁকে রাতে কিছু খাইয়ে বেহুঁশ করে দেওয়া হয়। তারপরই খুন করা হয়েছে বলেই আমাদের অনুমান। কারণ, পাশের ঘরে বাবা-মা ছিলেন। তাঁরাও কিছুই বুঝতে পারেনি। আমরা খুনের অভিযোগ দায়ের করেছি মাটিয়া থানায়। মৃতের মা শাহানারা বিবি বলেন, আমার ছেলেকে বউমা খুন করেছে। গোটা শরীর রক্তময়। বিছানাতেও রক্ত লেগেছিল। পাশের ঘরে থেকেও আমরা কিছুই বুঝতে পারিনি। মাটিয়া থানার পুলিস জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর আসল কারণ জানা যাবে। বসিরহাট পুলিস জেলার সুপার হোসেন মেহেদি রহমান বলেন, খুনের অভিযোগে স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠিয়ে হেফাজতের আবেদন করব। আর তারপরেই জেরা করে আমরা খুনের আসল কারণ জানব।