Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিয়ের ৬ মাসের মধ্যেই গোলাবাড়ির ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার গৃহবধূর ঝুলন্ত দেহ, স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের

বিয়ের ৬ মাসের মধ্যেই গোলাবাড়ির ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার গৃহবধূর ঝুলন্ত দেহ, স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের
  • ২০ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: পাঁচ বছর চুটিয়ে প্রেম করার পর মাত্র ছ’মাস আগে বিয়ে করেছিল যুগল। বৃহস্পতিবার সকালে হাওড়ার গোলাবাড়ি থানা এলাকার রোজমেরি লেনে শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হল গৃহবধূর ঝুলন্ত দেহ। মৃতার নাম অলঙ্কৃতা সিনহা (২৬)। তাঁর পরিবারের অভিযোগ, সন্দেহের বশে অলংকৃতাকে প্রতিদিন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করত জামাই শুভম ঘোষ। মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে বলে স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে গোলাবাড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে মৃতার পরিবার। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, বেলুড়ের সাঁপুইপাড়ার বাসিন্দা অলঙ্কৃতার সঙ্গে গত বছরের নভেম্বর মাসে বিয়ে হয় গোলাবাড়ি থানা এলাকার রোজমেরি লেনের বাসিন্দা শুভম ঘোষের। দু’জনেই সেক্টর ফাইভে দু’টি আলাদা আইটি কোম্পানিতে কাজ করেন। অলঙ্কৃতার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন মেয়েকে বাপের বাড়িতে আসতে দিত না। বিভিন্ন ছোটখাটো বিষয় নিয়ে অলঙ্কৃতাকে সন্দেহ করত শুভম। এমনকী, ফোনে বাবা-মা বা ভাইয়ের সঙ্গে ঠিক মতো কথাও বলতে দিত না। শুধু মেয়েকে নির্যাতন নয়, বিয়ের সময় থেকে আমাদের সঙ্গেও খারাপ আচরণ করতে শুরু করে শুভমের পরিবার। অন্য কোম্পানি হলেও অলঙ্কৃতা শুভমের তুলনায় উঁচু পদে চাকরি করতেন। সেটা ভালোভাবে নেয়নি তাঁর স্বামী। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে মনোমালিন্য হতো। মানসিক হেনস্তার পাশাপাশি গৃহবধূকে প্রায়ই মারধর করা হতো বলে অভিযোগ অলঙ্কৃতার বাড়ির লোকজনের। তাঁদের দাবি, এদিন সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ শ্বশুরবাড়ি থেকে ফোন করে মেয়ের আত্মহত্যার খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে সরাসরি হাওড়া জেলা হাসপাতালে যায় অলঙ্কৃতার পরিবার।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, রোজমেরি লেনের একটি আবাসনের ফ্ল্যাট থেকে গৃহবধূর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। শ্বশুরবাড়ির সদস্যরাই দেহটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। মৃতার ভাই সৌম্যজ্জ্বল সিনহা বলেন, ‘আমাদের খবর দেওয়ার আগেই ওরা দিদির দেহ নিয়ে হাসপাতালে চলে গিয়েছে। দিদি কোনওভাবেই আত্মঘাতী হতে পারে না। ওকে শ্বশুরবাড়ির সবাই মিলে অত্যাচার করত। ওরাই মেরেছে দিদিকে। প্রত্যেকের কঠিন শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’ মৃতার বান্ধবী ও পরিজনদের বক্তব্য, ‘টাকা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে অলঙ্কৃতাকে খোঁটা দিত শ্বশুরবাড়ির লোকজন। বিয়ের আগে আমরা কেউই বুঝতে পারিনি, শুভম ও ওই পরিবারের সদস্যরা এমন আচরণ করতে পারে। ওরা চায়নি অলঙ্কৃতা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুক।’ পুলিস জানিয়েছে, ‘দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে ময়নাতদন্ত করা হবে। মৃতার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।’ এই ঘটনায় অলঙ্কৃতার শ্বশুরবাড়ির তরফে কেউই কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ