


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পার্ক স্ট্রিটের হোটেলের রুমে বক্স খাটের মধ্যে দেহ মেলার ঘটনার তদন্তে সূত্র সন্ধানে অন্ধকার হাতড়াচ্ছে পুলিশ। দুই অভিযুক্ত আদৌ ওড়িশার বাসিন্দা কি না, এই নিয়ে সন্দেহ দানা বেঁধেছে। একইসঙ্গে হোটেলে জমা দেওয়া ভুয়ো আধারটি তৈরি করা হয়েছে অন্যের আসল আধার নম্বর ব্যবহার করে। তদন্তে নেমে এমন তথ্য হাতে এসেছে পুলিশের। কিন্তু সেটি কোথায় তৈরি হল, কে করল, তা জানার চেষ্টা চলছে। যে সমস্ত সাইবার কাফেতে আধার তৈরি হয়, সেখানে গিয়েও খোঁজ নেন তদন্তকারীরা। নিয়মানুযায়ী আধার নথি জমা পড়ার পর পুলিশের কাছে সেটি পাঠাতে হয়। এক্ষেত্রে তা পাঠায়নি হোটেল কর্তৃপক্ষ। কেন তারা নথি দেয়নি জমা দেয়নি, তা নিয়ে আলাদা করে খোঁজখবর শুরু হয়েছে।
শুক্রবার পার্ক স্ট্রিট থানা এলাকায় রফি আহমেদ কিদোয়াই রোডের একটি হোটেলের রুমে বক্স খাটের মধ্যে থেকে উদ্ধার হয় পচাগলা দেহ। জানা যায়, মৃত ব্যক্তির নাম রাহুল লাল। তাঁকে বিছানার বেড সিট পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, রাহুলের সঙ্গে দুই সঙ্গী এসেছিল। তারাই এই খুনের ঘটনায় যুক্ত। হোটেলে নিজেদের ওড়িশার বাসিন্দা বলে তারা জানিয়েছিল। তদন্তকারীরা বলছেন, খুন হওয়া রাহুল লালের কাছে কোন মোবাইল ফোন মেলেনি। তাঁরা জেনেছেন, রাহুল কোনও মোবাইল ব্যবহার করতেন না। তবে রাহুল তাঁর দাদার ফোন ব্যবহার করে বিভিন্ন জনের সঙ্গে কথা বলতেন বলে জানা যাচ্ছে। ওই মোবাইলের কল ডিটেইলস ঘাঁটছে পুলিশ। তবে রাহুলের সঙ্গী হিসেবে যে দু’জন এসে নিজেদের ওড়িশার বাসিন্দা বলে জানিয়েছিল, পুলিশ মনে করছে সেটা আসলে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা। তদন্ত পর্বে বাইরে থাকা সিসি ক্যামেরায় সুত্রে জানা যাচ্ছে, ওই দু’জন হোটেল থেকে বেরিয়ে রফি আহমেদ কিদোয়াই রোডে আসে। কিন্তু সেখান থেকে তারা কোন বাহনে উঠেছিল, তা হদিশ মিলছে না। কারণ সেখানে কোনও সিসি ক্যামেরা নেই। এর থেকে পুলিশের অনুমান, রাহুলের ওই দুই সঙ্গী আগে থেকেই রেকি করে সিসি ক্যামেরা না থাকার বিষয়টি জেনেছিল। সন্দেহ করা হচ্ছে, কোনও ট্যাক্সি ধরে তারা বেরিয়ে গিয়ে থাকতে পারে। সেই কারণে ওই রাস্তা ধরে ওয়েলিংটন বা পার্ক স্ট্রিটের যে অংশে যাওয়া যায়, সেখানে থাকা সিসি ক্যামেরাগুলি পরীক্ষা করে ক্লু পাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। একইসঙ্গে হাওড়া স্টেশন ও শিয়ালদহ স্টেশনের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জানার চেষ্টা হচ্ছে ঘটনার পর তারা ট্রেন ধরে ভিন রাজ্যে পালিয়েছে কি না। পলাতক দুই অভিযুক্তের ছবি বিভিন্ন রেল স্টেশন ও ভিন রাজ্যের পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে খবর।