নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার সময় থেকে লাগু হয়ে যায় আদর্শ আচরণবিধি। তাই বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পর থেকে কলকাতা পুরসভার সম্পত্তি করে ‘ওয়েভার’ বন্ধ ছিল। ‘ওয়েভার’-এর অর্থ বকেয়া সম্পত্তি কর মিটিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে সুদ ও পেনাল্টির নির্দিষ্ট অংশ ছাড়। ভোটপর্ব মিটে গিয়েছে। রাজ্যে পালাবদলও হয়েছে। কিন্তু এখনও ‘ওয়েভার’ চালু করেনি পুর কর্তৃপক্ষ। নির্বাচন পরবর্তী ডামাডোলের মধ্যে ভেঙে গিয়েছে পুরবোর্ড। বর্তমানে কলকাতা পুরসভা চালাচ্ছেন প্রশাসক। এই অবস্থায় নাগরিক সুবিধার স্বার্থে বছরভর যে ‘ওয়েভার’-এর সুযোগ দেওয়া হত, তা এখনও চালু না হওয়ায় হাজার হাজার সম্পত্তি করদাতার আবেদন পড়ে রয়েছে। এমনকি, গত সাত মাস বন্ধ রাখা হয়েছে সম্পত্তি করে বয়স্কদের জন্য বিশেষ ছাড়ও। সব মিলিয়ে ধাক্কা খাচ্ছে পুরসভার রাজস্ব আদায়। গত বছর এই সময়কালে সম্পত্তি কর খাতে যে আয়বৃদ্ধি হয়েছিল, চলতি বছর তার চেয়ে ১০ শতাংশ কম আদায় হয়েছে। যদিও পুরসভার অন্দরে গুঞ্জন, তৃণমূল কংগ্রেসের আমলে কর ছাড়ের যে কাঠামো ছিল, তা তুলে দিয়ে নতুন করে ‘ওয়েভার স্কিম’ আনার প্রক্রিয়া চলছে।
ফিরহাদ হাকিম মেয়র থাকাকালীন একবার বিশেষ ‘ওয়েভার স্কিম’ আনা হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিপুল বকেয়া থাকা সম্পত্তি কর মিটিয়ে দিলে ছাড়ের সুযোগ মিলত। পরে সেই ‘ওয়েভার স্কিম’ বন্ধ হয়ে গেলেও বছরভর ছাড়ের সুযোগ মিলত। একটা সময় কলকাতা পুরসভা সিদ্ধান্ত নেয়, এর মাপকাঠি বদলে ফেলা হবে। সেই মতো ঠিক হয়, যে যত বেশি দিন সম্পত্তি কর বকেয়া রেখেছেন, সেই করদাতাকে তত কম ছাড় দেওয়া হবে। গত কয়েক বছর ধরে কার্যকর রয়েছে এই নিয়ম। পাশাপাশি, বয়স্ক এবং অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের জন্য সম্পত্তি করে ১০ শতাংশ অতিরিক্ত ছাড়ের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু নির্বাচনি আচরণবিধি লাগু হওয়ার পর থেকে যাবতীয় ‘ওয়েভার’ বন্ধ। সম্পত্তি কর মূল্যায়ন এবং রাজস্ব আদায় বিভাগের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, স্বাভাবিক নিয়ম হল, ভোট হয়ে যাওয়ার পর আবার ওয়েভার চালু হয়ে যাবে। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে গোটা বিষয়টি জটিল হয়ে যায়। প্রচলিত ওয়েভারে ছাড়ের যে মাপকাঠি রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে পুরসভার বর্তমান শীর্ষ কর্তৃপক্ষ। আইন মেনেই যে সবটা হয়েছিল, বোঝান আধিকারিকরা। তারপরেও এ সংক্রান্ত ফাইল নড়ছে না। নাগরিকরা সম্পত্তি কর ছাড়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট মহলের আশা, ‘ওয়েভার’ নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে পুরসভা।