Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মাঠে মেলা-বিয়ে, ‘ফি’ দিতে হবে পুরসভাকে, আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিদ্ধান্ত বরানগরে

ভাঁড়ে মা ভবানি অবস্থা। অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের পেনশন, গ্র্যাচুইটি দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বরানগর পুরসভাকে।

মাঠে মেলা-বিয়ে, ‘ফি’ দিতে হবে পুরসভাকে, আয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিদ্ধান্ত বরানগরে
  • ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ভাঁড়ে মা ভবানি অবস্থা। অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের পেনশন, গ্র্যাচুইটি দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে বরানগর পুরসভাকে। এই অবস্থায় আয় বাড়াতে মরিয়া কর্তৃপক্ষ। সিদ্ধান্ত হয়েছে, পুরসভার মাঠ বাণিজ্যিক কাজে অথবা বিয়ে বাড়ি, মেলা সহ ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হলে পুরসভাকে ‘ল্যান্ড ইউজ ফি’ দিতে হবে। পুরসভা লাগোয়া কালীতলা মাঠ সহ অন্যান্য জায়গার ক্ষেত্রে দৈনিক হাজার টাকা ‘ভাড়া’ ধার্য করা হয়েছে। যদিও পুরসভার দাবি, ওইসব মাঠ পরিষ্কার করতে লেবার সহ নানা খরচ করতে হয়। এবার থেকে সেই খরচ নেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

Advertisement

বরানগর পুরসভার আর্থিক অবস্থা বেহাল। পুরসভার নিজস্ব তহবিল থেকে বড়ো কাজ করা যাচ্ছে না। রাজ্যের প্রকল্প না এলে উন্নয়নের কাজ আটকে থাকছে। কয়েকশো অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর পেনশন ঠিকমতো দেওয়া যাচ্ছে না। তাই মাঝেমধ্যে তাঁরা আন্দোলনে নামছেন। তাঁদের গ্র্যাচুইটি সহ অন্যান্য সুবিধাও মাসের পর মাস আটকে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আয় বাড়ানো ছাড়া পুরসভার কাছে বিকল্প রাস্তা নেই। কিন্তু ভোটের প্রাক্কালে শহরবাসীর উপর নতুন কোনো কর চাপানোর পরিস্থিতিও নেই। তাই পুরসভা এলাকায় সরকারি মাঠের দিকে নজর দেওয়া হয়েছে।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩৪টি ওয়ার্ডে বড়ো মাঠের সংখ্যা ৫০টির বেশি। প্রতিটি মাঠের পাশে ক্লাব রয়েছে। বহু ক্লাবের সংলগ্ন মাঠ বিয়ের অনুষ্ঠান সহ নানা কাজে ব্যবহার করা হয়। সেই মাঠ পরিষ্কার, আবর্জনা সংগ্রহ, ব্লিচিং ছড়ানোর কাজ করতে হয় পুরসভাকে। পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে এইসব মাঠ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। তাতে বলা হয়, কালীতলা মাঠে মেলা সহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। পুরসভাকে নিয়মিত আবর্জনা সংগ্রহ করতে হয়। আয়োজকরা আর্থিকভাবে লাভবান হয়। কিন্তু পুরসভা সেখান থেকে আবর্জনা পরিষ্কারের টাকা পায় না। তাই সর্বসম্মত ভাবে সিদ্ধান্ত হয় কালীতলা মাঠ সহ শহরের মাঠ বা সরকারি জায়গা ব্যবহার করলে পুরসভা দৈনিক এক হাজার টাকা ভাড়া নেবে। পুরসভার সিআইসি রামকৃষ্ণ পাল বলেন, শহরের যত বিয়ে বাড়ি রয়েছে সেখান থেকেও আবর্জনা তুলতে হয়। বিভিন্ন মাঠ ক্লাবের দখলে রয়েছে। নানা ব্যবসায়িক কারণে সেই মাঠ ব্যবহার হচ্ছে। সেখানকার আবর্জনাও পুরসভাকে সংগ্রহ করতে হচ্ছে। তাই বোর্ড মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এইসব জায়গা বাণিজ্যিক ব্যবহার হলে পুরসভা চার্জ নেবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ