Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মেট্রোপলিটনে উকিলের ভেড়িকে পুরনো চেহারায় ফেরাচ্ছে পুরসভা

মেট্রোপলিটনে উকিলের ভেড়িকে পুরনো চেহারায় ফেরাচ্ছে পুরসভা
  • ১৮ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভরাট হতে হতে কার্যত অবলুপ্ত হতে বসেছিল ই এম বাইপাসের ধারে বেলেঘাটার উকিলের ভেড়ি। অবশেষে গ্রিন ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে সেই ভেড়িকে আগের চেহারায় ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু করেছে কলকাতা পুরসভা। ভেড়ির সীমানা নির্দিষ্ট করার কাজ চলছে এখন। তারপর মাটি তুলে ফের জলাশয়কে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছে পুরসভার পরিবেশ ও হেরিটেজ বিভাগ। 

Advertisement

বাইপাস সংলগ্ন মেট্রোপলিটন এলাকায় বিশাল এলাকাজুড়ে উকিলের ভেড়ির অবস্থান। প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে ধীরে ধীরে সেই জলাশয় ভরাট করা শুরু হয়েছিল। অভিযোগ, যিনি একসময় এই ভেড়ি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন, তিনিই গোটা ভেড়ি ভরাট করে সেই জমি বিক্রির চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের প্রশ্রয়েই তিনি এই কাজ করছিলেন বলে অভিযোগ। এই বিষয়টি সামনে আসতেই পদক্ষেপ গ্রহণ করে কলকাতা পুরসভা। কিন্তু ভেড়ির মালিকপক্ষ গ্রিন ট্রাইব্যুনাল এবং কলকাতা হাইকোর্টে মামলা করে বসে। পুরসভার পরিবেশ বিভাগের মেয়র পারিষদ স্বপন সমাদ্দার বলেন, ‘আমরা আগেই ওই জায়গাটি পুরনো অবস্থায় ফেরানোর চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু মামলা হওয়ায় কাজ আটকে যায়। তারপর গ্রিন ট্রাইব্যুনাল কমিটি তৈরি করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেয় পুরসভাকে। সেই নির্দেশ মতো আমরা সমস্ত ব্যবস্থা করছি। এক কোটিরও বেশি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে এই কাজের জন্য। ভেড়িকে পুরনো অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে।’ 
আদালতের নির্দেশ হাতে পাওয়ার পর পূর্ণ উদ্যমে আসরে নামে পুরসভা। তৈরি হয় আট সদস্যের একটি কমিটি। উকিলের ভেড়িতে বড় হলুদ রঙের বোর্ড ঝুলিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়, আদালতের নির্দেশে এই ভেড়ি বোজানো নিষিদ্ধ। কেউ আবারও সেই কাজ করলে তা আইনত অপরাধ বলে ধরা হবে। বিভাগীয় এক অফিসার বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, যিনি এই ভেড়ি দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন, তিনি নিজেই এই ভেড়ি বোজানোর পিছনে রয়েছেন। বহু বছর ধরে তিনি এই কাজ করছিলেন। তারপর পুরসভা জায়গাটি নিয়ে নাড়াচাড়া শুরু করতেই তিনি মামলা করেন। গ্রিন ট্রাইব্যুনাল পুরসভাকে ভেড়িটি পুরনো চেহারায় ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সেই অনুসারে কাজ শুরু হয়েছে। সার্ভে বিভাগকে সঙ্গে নিয়ে ভেড়ির সীমানা নির্ধারণ করা হচ্ছে। এখনও সেখানে কিছু অংশে জল রয়েছে। বাকিটা ভরাট হয়ে গিয়েছে। ইতিমধ্যে আমরা আদালতের নির্দেশ উল্লেখ করে সেখানে বোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছি। সীমানা নির্ধারণ সম্পূর্ণ হলে জায়গাটি ভালো করে ঘিরে মাটি তোলা হবে। আগের অবস্থায় ফিরে আসবে এই জলাশয়।’  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ