নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ২৫ কোটি টাকা খরচ করে সল্টলেকের ১৪টি ওয়ার্ডে রাস্তা মেরামতের কাজ করছে বিধাননগর পুরসভা। সংস্কার শুধু নয়, রাস্তা যাতে মজবুত বা স্থায়ী হয় সে দিকেও বাড়তি নজর দিচ্ছে পুর কর্তৃপক্ষ। অতীতে দেখা গিয়েছে, সংস্কারের কাজের পর কয়েক মাসের মধ্যে রাস্তার পিচ উঠে গিয়েছিল। ফলে প্রতিবছর সংস্কার হলেও রাস্তা দীর্ঘস্থায়ী হতো না। সে খামতির দিকেই এবার বাড়তি নজর দিচ্ছে পুর কর্তৃপক্ষ। পথের গুণগত মানও খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। রাস্তা মেরামতের বরাতপ্রাপ্ত ঠিকাদারকে সে কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুরসভার বক্তব্য, সংস্কারের পাঁচ বছরের মধ্যে রাস্তা খারাপ হয়ে পড়লে মেরামত করতে হবে ওই ঠিকাদারকেই। না হলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিধাননগর পুরসভার মধ্যে রয়েছে ৪১টি ওয়ার্ড। এর মধ্যে বিধাননগর বিধানসভা এলাকা অর্থাৎ সল্টলেকের মধ্যে পড়ে ১৪টি ওয়ার্ড। বাকি ২৭টির মধ্যে রাজারহাট-গোপালপুর বিধানসভা এলাকায় ১৬টি এবং রাজারহাট-নিউটাউন বিধানসভায় ১১টি ওয়ার্ড রয়েছে। তিন মার্চ থেকে সল্টলেকে আনুষ্ঠানিকভাবে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৫, ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০ এবং ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ২৪ কিলোমিটার রাস্তার পূর্ণ সংস্কার হবে। এই কাজের জন্য রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করে। পাশাপাশি কলকাতা মেট্রোপলিটন ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (কেএমডিএ) থেকে আরও ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। সেই টাকায় সল্টলেকে রাস্তা সংস্কারের কাজ করছে কেএমডিএ।
সংস্কারের কাজের বরাত যাঁরা পেয়েছেন, সেই ঠিকাদার ও এজেন্সিদের সঙ্গে ২৯ ফেব্রুয়ারি বৈঠক করে পুর কর্তৃপক্ষ। বিধাননগরের বিধায়ক ও রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসু, বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী সহ ১৪টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলাররা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। মেয়র জানান, পাঁচ বছরের মধ্যে রাস্তা খারাপ হলে যিনি কাজ করেছেন, তাঁকেই ঠিক করতে হবে। যদি তিনি না করেন তাহলে আমরা পদক্ষেপ নেব। প্রয়োজনে তাঁকে ব্ল্যাকলিস্টেড করা হবে। আমরা চাই, সংস্কার করা নতুন রাস্তা স্থায়ী হোক। এ কথা ঠিকাদারকে জানিয়ে দিয়েছি। তাঁরা প্রত্যেকে আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন।