Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সরকারি ত্রাণ সামগ্রী ক্লাবঘরে মজুতের অভিযোগে ধৃত পুরসভার চেয়ারম্যান

সরকারি ত্রাণসামগ্রী ক্লাবে অবৈধভাবে মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহাকে। এই ঘটনায় সৌরভ সাহা নামে এক ক্লাব সদস্যকেও ধরেছে পুলিশ।

সরকারি ত্রাণ সামগ্রী ক্লাবঘরে মজুতের অভিযোগে ধৃত পুরসভার চেয়ারম্যান
  • ৩১ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: সরকারি ত্রাণসামগ্রী ক্লাবে অবৈধভাবে মজুত রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহাকে। এই ঘটনায় সৌরভ সাহা নামে এক ক্লাব সদস্যকেও ধরেছে পুলিশ। শুক্রবার গভীর রাতে নবদ্বীপের বড়ালঘাট স্পোর্টিং ক্লাব থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার হয়। এই ঘটনায় এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। শনিবার ভোরে পুলিশ পুরসভার চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়। শনিবার ধৃতদের কৃষ্ণনগর আদালতে তোলা হলে বিচারক ছ’দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন। 

Advertisement

এবিষয়ে কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার সুপার ওয়াই রঘুবংশী বলেন, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে নবদ্বীপ পুরসভার চেয়ারম্যান সহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারি ত্রাণের ত্রিপল, শাড়ি, কম্বল এবং শিশুদের পোশাক অবৈধভাবে মজুতের অভিযোগে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদিন ভোর পৌনে ৪টে নাগাদ বিমানকৃষ্ণবাবুকে তাঁর বাড়ি থেকে আটক করে নবদ্বীপ থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখান থেকে তাঁকে কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে নবদ্বীপের বড়ালঘাট স্পোর্টিং ক্লাবের তিনটি ঘর থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার হয়। ওই ক্লাবটি চেয়ারম্যান বিমানকৃষ্ণ সাহা, প্রাক্তন বিধায়ক পুণ্ডরীকাক্ষ সাহার পাড়াতেই রয়েছে। শুক্রবার মধ্যরাতে বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে বিক্ষোভে শামিল হন। তাঁদের দাবি ছিল, সরকারি ত্রাণসামগ্রী আত্মসাতের অভিযোগে অবিলম্বে চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করতে হবে।
পুরসভার চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করার ঘটনায় যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় তারজন্য কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার ডিএসপি(ডি অ্যান্ড টি) কৌশিক বসাক, নবদ্বীপ থানার পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী নবদ্বীপে পৌঁছে যায়। রাতেই ক্লাবটি সিল করে দেওয়া হয়। শনিবার ভোরে চেয়ারম্যানকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষোভকারীরা ‘চোর চোর’ বলে স্লোগান দেয়। তাঁকে লক্ষ্য করে  জুতোও ছোড়া হয়। প্রাচীন মায়াপুরের বাসিন্দা সুবল ঘোষ নামে এক যুবক সরকারি ত্রাণের জিনিস ক্লাবে রয়েছে বলে নবদ্বীপ থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
খবর পেয়ে শুক্রবার রাতেই পুরসভার চেয়ারম্যানের বাড়িতে পৌঁছান নবদ্বীপের প্রাক্তন বিধায়ক পুণ্ডরীকাক্ষ সাহা। তিনি দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া সামগ্রীগুলি কোনো চুরি করা জিনিস নয়। ওগুলি বিধায়ক কোটায় পাওয়া ত্রাণসামগ্রী। জায়গার অভাবে সেগুলি সাময়িকভাবে ক্লাবঘরে রাখা হয়েছিল। তবে তাঁর ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে এক ক্লাব সদস্যকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পুলিশ উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর উৎস ও বিতরণের নথিপত্র খতিয়ে দেখছে।
এবিষয়ে নবদ্বীপের বিধায়ক শ্রুতিশেখর গোস্বামী বলেন, এটি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত গণবিক্ষোভ। এখানে বিজেপি নেতৃত্ব দেয়নি। বিজেপির কর্মীরা গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। না হলে আরও বড় ঘটনা ঘটতে পারত। ভোটের আগে নিয়মিতভাবে এই ত্রাণসামগ্রী ঘনিষ্ঠদের মধ্যে বিলি করা হত। যদিও এই বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতৃত্বের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ