নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: মাটির নীচে বিদ্যুৎবাহী তার ও জলের পাইপলাইন বসাতে গিয়ে শহরের রাস্তা ভাঙা হয়েছিল। এর ফলে বছরখানেক ভোগান্তি সহ্য করতে হয়েছিল নাগরিকদের। এবার রাস্তা সংস্কারের কাজে নামছে চন্দননগর পুরসভা। শহরের ৩৩ ওয়ার্ডজুড়ে কাজের প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে। কাজে বরাদ্দ পাঁচ কোটি টাকা। পুরকর্তাদের দাবি, চলতি মাসের শুরু থেকে সংস্কারের কাজ শুরু করেছে পুরসভার পূর্ত বিভাগ। এই কাজের জন্যও বাসিন্দাদের যাতায়াতে সমস্যা হবে। তাঁদের ভোগান্তির কমাতে ১৫ জুনের মধ্যে কাজ শেষের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মেরামত শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে মানুষের মধ্যে। চন্দননগর পুরসভার মেয়র রাম চক্রবর্তী বলেন, শহরের দু’টি উন্নয়নমূলক কাজের জন্য রাস্তা খুঁড়তে হয়েছিল। তাতে বাসিন্দাদের সমস্যায় পড়তে হয়। যদিও বিদ্যুৎবাহী তার মাটির তলা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার ও জলের পাইপলাইন বসানোর সুফল মানুষ পাবেন। ক্ষতিগ্রস্ত সমস্ত রাস্তা আমরা সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছি। যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, জগদ্ধাত্রী পুজোর ভাসানের জন্য শহরের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে ভূগর্ভস্থ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। ভাসানের শোভাযাত্রার সময় বিরাট আয়তনের প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার কারণে শহরের বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ রাখতে হতো। তাতে দেখা দিত সমস্যা। এবার জগদ্ধাত্রী পুজোর সময় আর সেই সমস্যা থাকবে না। ফলে রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগে খুশি হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতের কথা ভেবেও খুশি চন্দননগরের কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটির সাধারণ সম্পাদক শুভজিৎ সাউ। তিনি চন্দননগর পুরসভার মেয়র পরিষদ সদস্যও। শুভজিৎবাবু বলেন, বিদ্যুৎবণ্টন কোম্পানির আধুনিক পদক্ষেপের জেরে চন্দননগরের মানুষের আবেগ, জগদ্ধাত্রী পুজোর শোভাযাত্রা একটি ভিন্ন মাত্রা পাবে। নাগরিকদের আবেগের মর্যাদা দেওয়ার সঙ্গে প্রাত্যহিক প্রয়োজন মেটানোও পুরসভার অন্যতম দায়িত্ব। চন্দননগরের বাসিন্দা চিত্রশিল্পী সজল মিত্র বলেন, ভবিষ্যতের ভালো হবে সেটা ভালো। কিন্তু রাস্তার বেহাল দশার জেরে নাগরিকদের তীব্র সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছিল। দেরিতে হলেও পুরসভা সেই বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে, এটা ভালো সিদ্ধান্ত।



