নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: জমা জলের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে মঙ্গলবার পথ অবরোধ করেছিলেন হাওড়ার বেলগাছিয়া ভাগাড় সংলগ্ন বামনগাছি এলাকার বাসিন্দারা। স্থানীয়দের বিক্ষোভের ২৪ ঘণ্টা পরেও সেই সমস্যার সমাধান হয়নি। এখনও জলমগ্ন উত্তর হাওড়ার তিনটি ওয়ার্ড। বুধবার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে বেলগাছিয়া ভাগাড়ে যান কেএমডিএ এবং হাওড়া পুরসভার উচ্চপদস্থ কর্তারা। মাইক্রো টানেল বসিয়ে দ্রুত জমা জল নামানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয় এদিন। আগামী চারদিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশাবাদী হাওড়া পুরসভা।
বেলগাছিয়া ভাগাড়ে ভূমিধসের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত ড্রেনেজ সিস্টেমের কাজ কীভাবে দ্রুত শেষ করা যায়, তা দেখতে এদিন সেখানে যান কেএমডিএ’র সিইও রাজেশ সিনহা, হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী ও ইঞ্জিনিয়ারদের একটি দল। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয়, শিট পাইলিং করে আপাতত ড্রেনেজ সিস্টেমের কাজ করা হবে না। তার কারণ, শিট পাইলিংয়ের সময় আবর্জনার পাহাড় থেকে ফের ধস নামতে পারে। তাই বামনগাছি সি রোড থেকে মাইক্রো টানেলের মাধ্যমে উত্তর হাওড়ার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জমা জল পার্শ্ববর্তী একটি অক্সিডেশন পুকুরে ফেলা হবে। আগামী তিন-চারদিনের মধ্যেই এখানে ১৫০০ এমএম ডায়ার মাইক্রো টানেল বসাবে কেএমডিএ। ২০২২ সালে স্থানীয় এলাকায় একটি অক্সিডেশন পুকুর তৈরি করেছিল হাওড়া পুরসভা। সেই পুকুরটি আরও গভীর করার কাজ শুরু হয়েছে। হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক বলেন, ‘অক্সিডেশন পুকুরের জল ধারণ ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। আবর্জনা সহ নোংরা জল সেখানে গিয়ে পড়বে। এরপর সেখান থেকে আবর্জনা আলাদা করা হবে। ফলে উত্তর হাওড়ায় জল জমার সমস্যা অনেকটাই মিটবে।’
এখনও সি রোডের অধিকাংশ এলাকা নর্দমার নোংরা জলে ডুবে রয়েছে। বিশেষ করে সি রোড বাজার, বালক সঙ্ঘ, বিবেকনগরের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই নর্দমার জল ঢুকে রয়েছে। বি রোডের আমতলা মাঠ, অটো স্ট্যান্ড, কলাবাগান, হরিশ কলোনিতেও থই থই অবস্থা। অভিযোগ, বি রোডে থাকা একটি প্রাইমারি স্কুলের ভিতরেও জল জমে রয়েছে।
ফলে বেশ কিছুদিন ধরে সেখানে পঠনপাঠন শিকেয় উঠেছে। স্কুল খোলা থাকলেও নোংরা জল মাড়িয়ে বাচ্চাদের স্কুলে নিয়ে যেতে চাইছেন না অভিভাবকরা। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক, এমনটাই চাইছেন স্থানীয়রা। অন্যদিকে, এদিন বেলগাছিয়া ভাগাড়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ ও সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট রুলস, ২০১৬ অনুযায়ী শহরের নিত্যদিনের আবর্জনা প্রক্রিয়াকরণের জন্য হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি জমা দেয় সবুজ মঞ্চ নামের একটি পরিবেশপ্রেমী সংস্থা। সংস্কার সাধারণ সম্পাদক নব দত্ত পুরসভার মুখ্য প্রশাসকের হাতে একাধিক দাবি সম্মিলিত স্মারকলিপিটি তুলে দেন।