নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দোরগোড়ায় বর্ষা। রাজ্যের মানুষকে জমা জলের যন্ত্রণা থেকে রেহাই দিতে সোমবার বিধাননগরের জলসম্পদ ভবনে সেচ, পুর ও পঞ্চায়েতসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বৈঠক হল। দুই মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ এবং অগ্নিমিত্রা পাল ছাড়া ছিলেন দপ্তরগুলির পদস্থ অফিসাররা। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে প্রতিটি নিকাশি খাল সংস্কারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তবে এবার হাতে সময় কম থাকায় বর্ষার ক্ষেত্রে আপৎকালীন পরিস্থিতিতে কাজের গতি বাড়িয়ে জলযন্ত্রণা যতটা সম্ভব কমাবার চেষ্টা করা হবে। একইসঙ্গে সাধারণ মানুষকে আরো সচেতন হতে হবে বলেও মনে করেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী।
অগ্নিমিত্রা জানিয়েছেন, সবাইকে বলব ‘ড্রাই ওয়েস্ট’ এবং ‘ওয়েট ওয়েস্ট’ আলাদা করে আবর্জনার গাড়িতে ফেলতে। আমরা একমাস সময় দেব। ওইসঙ্গে প্রচারও চলবে। তারপর থেকে নিয়ম করে দেব, আলাদা করে না দিলে বাড়ি বাড়ি গিয়ে আর আবর্জনাই তোলা হবে না। কারণ, যত্রতত্র আবর্জনা ফেলার কারণেই খাল, নালা প্রভৃতি বুজে যায়। সেক্ষেত্রে মানুষকে সচেতন হওয়ার আরজি জানিয়েছেন তিনি।
এদিন বিকালে হলদিরাম সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শনে যান অগ্নিমিত্রা। পরিদর্শন শেষে, শহর এলাকায় ম্যানহোল বুজিয়ে দেওয়া নিয়ে পূর্বতন সরকারকে একহাত নেন তিনি। তাঁর মন্তব্য, ‘শুধুমাত্র ভোট পাওয়ার লোভে কীভাবে ম্যানহোল বুজিয়ে রাস্তা তৈরি করে ফেলা যায়, সেটা একমাত্র তৃণমূলের সরকারের থেকেই শেখা যায়।’ তবে পরিস্থিতিতে বদল আনতে ম্যানহোলগুলি পরিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। ম্যানহোল পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং প্রযুক্তির ব্যবহারেই এই সরকার বিশেষ জোর দেবে বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন।
মন্ত্রীর বক্তব্য, সেক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনেই কাজ হবে। কোনো ব্যক্তিকে ম্যানহোলের মধ্যে নামিয়ে পরিষ্কার করানোর ক্ষেত্রে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু, পূর্বতন জমানায় এই নির্দেশ কার্যকর করা হয়নি। এবার কাজ হবে সুপ্রিম নির্দেশ মেনেই এবং ম্যানহোলে কোনো মানুষ নামবেন না। জানিয়ে দিয়েছেন অগ্নিমিত্রা। পুরমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গ সফর ৭, ৮ এবং ৯ জুন। সেখানে তিনি বর্ষা মোকাবিলা ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।