নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত কয়েক বছর ধরে প্রতিবেশী পুরসভাগুলির জঞ্জালের বোঝা বহন করতে হচ্ছে কলকাতা পুরসভাকে। পার্শ্ববর্তী পুরসভাগুলির প্রায় ন’লক্ষ মেট্রিক টন আবর্জনা পড়েছে ধাপায়, কলকাতা পুরসভার ডাম্পিং গ্রাউন্ডে। এই পরিস্থিতিতে এবার অন্যান্য পুরসভার বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের দায়িত্বও পড়ল কলকাতা পুরসভার ঘাড়ে। বিধাননগর এবং নব দিগন্ত ইন্ডাস্ট্রিয়াল টাউনশিপ অথরিটি (এনডিআইটিএ) এলাকার জঞ্জাল প্রক্রিয়াকরণ করতে নিউটাউনের পাথরঘাটায় কলকাতা পুরসভার জমিতে তৈরি হবে নয়া ইউনিট। পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের তরফে কলকাতা পুরসভাকে এই প্রকল্পের যাবতীয় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে খবর। এখন প্রকল্পের ডিপিআর তৈরির কাজ চলছে।
২০১৯ সাল থেকে বিধাননগর পুরসভা, নিউটাউন-কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এনকেডিএ) এবং নব দিগন্ত অঞ্চলের বর্জ্য ধাপায় ফেলা শুরু হয়। সম্প্রতি, কয়েক মাস পানিহাটি পুরসভা এলাকার জঞ্জালও ধাপায় আসছে। এভাবে কলকাতা ছাড়া অন্যান্য পুরসভা থেকে প্রতিদিন ৭৫০ থেকে ৮০০ মেট্রিক টন জঞ্জাল পড়ে ধাপায়। এক সময় ঠিক হয়েছিল, এই পুরসভাগুলিও বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণের নিজস্ব ইউনিট তৈরি করবে। কিন্তু বছরের পর বছর গড়ালেও তা হয়নি। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিভিন্ন পুরসভা অঞ্চলের জঞ্জাল সাফাই নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে তিনি নির্দেশ দেন, রাজ্যের সমস্ত পুরসভার জঞ্জাল সাফাই এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজ যেন কেন্দ্রীয়ভাবে করা হয়। তারপরই নড়েচড়ে বসে দপ্তর। কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, মন্ত্রীর নির্দেশে আপাতত বিধাননগর এবং নব দিগন্তের জঞ্জাল প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট তৈরির প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এক পুরকর্তা বলেন, ‘ওদের নিজস্ব প্রসেসিং ইউনিট তৈরির কথা ছিল। কিন্তু এত বছরেও সেই উদ্যোগ দেখা যায়নি। সেই আবর্জনা আমরাও প্রসেসিং করতে পারতাম না। এবার তা করা যাবে বলে আশা করা যায়।’ পাথরঘাটায় কলকাতা পুরসভার ২০ একর জমি রয়েছে। তার মধ্যে ৫ একর জমিতে বর্তমানে নির্মাণবর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রকল্প চলছে। তার পাশেই নয়া প্রসেসিং ইউনিটটি তৈরি করা হবে বলে খবর। ওই পুরকর্তা আরও বলেন, ‘ধাপার মতো এখানেও পচনশীল বর্জ্য থেকে সার, বায়ো সিএনজি উৎপাদন এবং প্লাস্টিক ও অপচনশীল বর্জ্যকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলার কাজ হবে।’