সংবাদদাতা, বারুইপুর: ফের ভারী বৃষ্টির জেরে জলমগ্ন বারুইপুর ও রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড। জল জমেছে রাস্তায়। ঢুকেছে বাসিন্দাদের ঘরে ঘরে। জমা জল থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ। ফি বছর এই সমস্যায় নাজেহাল হতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। এতে তীব্র ক্ষুব্ধ তাঁরা।
বারুইপুর পুরসভার অধীন ১৭টি ওয়ার্ড। এর মধ্যে ২, ৩, ৪, ৬, ১০, ১১, ১৩, ১৪, ১৫ নম্বর ওয়ার্ড জলমগ্ন। প্রতি ওয়ার্ডেই রাস্তা, অলিগলিতে জল। নর্দমার আর বৃষ্টির জল মিলেমিশে একাকার। কেন এই সমস্যা মেটানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না, সেই প্রশ্ন তুলছেন বাসিন্দারা। নাগরিকদের অভিযোগ, নর্দমা নামেই পরিষ্কার করা হয়। একেবারে তলা থেকে কাদা তোলা হয় না। ফলে জল উপচে পড়ে প্রতিটি নর্দমায়। প্লাস্টিক আটকে থাকে। দায়সারা কাজ করেন সাফাইকর্মীরা। এদিকে কাউন্সিলারদের কোনো নজরদারি নেই।
বারুইপুর পশ্চিম বিজেপি মণ্ডলের সভাপতি গৌতম চক্রবর্তী বলেন, পুরসভার কাউন্সিলাররা পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। নাগরিক পরিষেবার দিকে কোনো নজর নেই। আমরা মহকুমা শাসকের কাছে অভিযোগ জানিয়েছিলাম সমস্যা নিয়ে। এবার অবস্থান বিক্ষোভ হবে। অন্যদিকে, পুরসভার চেয়ারম্যান শক্তি রায়চৌধুরী বলেন, পাঁচটি পাম্প চলছে। সমস্যা সমাধান নিয়ে মগরাহাট ড্রেনেজ ডিভিশনের সঙ্গেও কথা হয়েছে। পাশাপাশি, ভারী বৃষ্টিতে জলমগ্ন রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার বিস্তীর্ণ এলাকাও। ১৫, ১৯, ২১, ২০, ২২, ৩০, ৩২, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাল বেশ খারাপ। এখানে বেশ কিছু জায়গায় পাম্প বসিয়ে জমা জল বের করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সব মিলিয়ে ২৮টি পাম্প চলছে বিভিন্ন জায়গায়। চেয়ারম্যান পল্লব দাস বলেন, আর বৃষ্টি না হলে আজ, বুধবারের মধ্যে জল নেমে যাবে। এদিকে, বৃষ্টিতে জল জমে ক্যানিংয়ের রাস্তা নদীতে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষের হয়রানি চরমে। যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়েছে দিনভর। এদিন দুপুরে ক্যানিং হেলিকপ্টার মোড়ের কাছে রাস্তার উপরে গাছ উপড়ে পড়ে। ফলে ঘণ্টাখানেক রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে যায়। তবে স্থানীয় বাসিন্দা, ক্যানিং ট্রাফিক বিভাগ ও দমকলের প্রচেষ্টায় অবশেষে সেই গাছ কেটে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। নিজস্ব চিত্র