Bartaman Logo
২০ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

শাড়ির ব্যবসার আড়ালে ২০ বছর ধরে মুঙ্গেরের অস্ত্র বাংলাদেশে পাচার! অশোকনগরে ধৃত পূজা

অশোকনগরে ২০ বছর ধরে চলছিল অস্ত্র পাচার। সিআইডি গ্রেপ্তার করেছে পূজা বিশ্বাসকে। কীভাবে চলছিল এই কারবার? বিস্তারিত পড়ুন।

শাড়ির ব্যবসার আড়ালে ২০ বছর ধরে মুঙ্গেরের অস্ত্র বাংলাদেশে পাচার! অশোকনগরে ধৃত পূজা
  • ২০ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বয়ফ্রেন্ডকে সঙ্গে নিয়েই শাড়ি ও জামা কাপড়ের ব্যবসার আড়ালে চলত অস্ত্র পাচার। শনিবার রাতে বাংলাদেশে অস্ত্র পাচারের চেষ্টায় ছিল যুগল। তার আগেই উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর থেকে অস্ত্র ব্যবসায়ী পূজা বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে একটি ম্যাজিক গাড়ি করে পালানোর চেষ্টা করেছিল সে। তার কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে নাইন এমএম এবং সেভেন এমএম পিস্তল সহ মোট ছ’টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ২০০ রাউন্ড কার্তুজ। এই মহিলা আদতে বাংলাদেশের নাগরিক বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। বাংলাদেশে কার কাছে এই আগ্নেয়াস্ত্র পাঠানো হচ্ছিল, তা জানার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনার তদন্তে ডিআইজির নেতৃত্বে চার সদস্যের সিট গঠন করা হয়েছে।

Advertisement

সিআইডির কাছে খবর ছিল, অশোকনগর থেকে অস্ত্র পাঠানো হবে বাংলাদেশে। এই কারবারের নেপথ্যে রয়েছে এক মহিলা। সে সাধারণত অ্যাপ ব্যবহার করে কথা বলত খরিদ্দারদের সঙ্গে। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, মুঙ্গের থেকে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আসার পর বরাত অনুযায়ী তা ডেলিভারি করে এই মহিলা। মোবাইলের সূত্র ধরে জানা যায়, পূজা আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সীমান্তে যাচ্ছে। সেখানেই তা হাত বদল হওয়ার কথা। সেইমতো শনিবার গভীর রাতে সিআইডির টিম পৌঁছে যায় ওই অশোকনগরে।
ম্যাজিক গাড়িটি নৈহাটি-অশোকনগর রোডে আসামাত্র সেটিকে আটক করেন সিআইডি অফিসাররা। ডিজি ক্রাইম রমেশ বাবু জানিয়েছেন, পূজা নামের এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার ব্যাগ তল্লাশির সময় উদ্ধার হয় চারটি নাইন এমএম ও দু’টি সেভেন এমএম পিস্তল। উদ্ধার হয়েছে ২০০ রাউন্ড কার্তুজ। বছর কয়েক আগে দত্তপুকুর থানাও এই মহিলাকে অস্ত্র সহ একবার গ্রেপ্তার করেছিল।
ধৃতকে জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, সে বছর কুড়ি আগে বাংলাদেশ থেকে ভারতে আসে। তারপর ভুয়ো নথি দিয়ে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড ও পাসপোর্ট তৈরি করে এবং নিজেকে ভারতীয় বলে দাবি করে। অশোকনগরের এক যুবককে বিয়ে করলেও পরে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। পরবর্তীকালে এক যুবকের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারা একসঙ্গেই থাকত। সবাই জানত, এই যুগল শাড়ি ও জামা কাপড়ের ব্যবসা করে। সামনে পোশাকের ব্যবসাকে ঢাল করে আড়ালে চলত অস্ত্র পাচার। 
জেরায় পূজা জানিয়েছে, সীমান্তের এক অস্ত্র ব্যবসায়ীর হাত ধরে তার এই কারবারে আসা। সে কয়েকবার মুঙ্গেরও গিয়েছে। প্রথমদিকে পূজা স্থানীয় দুষ্কৃতীদের আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ করত। পরে সামাজিক মাধ্যমে পরিচয় হয় বাংলাদেশের এক অস্ত্র ব্যবসায়ীর সঙ্গে। একটি অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করত তারা। বাংলাদেশের ওই অস্ত্র ব্যবসায়ী তাকে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের বরাত দিত। বাংলাদেশে যাওয়া সবজির গাড়িতে করে সে অস্ত্র চালান করত বলে জানা গিয়েছে। এই নেটওয়ার্কে আরও অনেকে রয়েছে। তাদের খোঁজ চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ