Bartaman Logo
৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ফুঁসছে মুন্ডেশ্বরী, রূপনারায়ণ ও দামোদর, আতঙ্কে এলাকাবাসী

ডিভিসির ছাড়া জলে মুন্ডেশ্বরী, দামোদর ও রূপনারায়ণ, এই তিন নদ-নদীই কানায় কানায় বইছে

ফুঁসছে মুন্ডেশ্বরী, রূপনারায়ণ ও দামোদর, আতঙ্কে এলাকাবাসী
  • ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: ডিভিসির ছাড়া জলে মুন্ডেশ্বরী, দামোদর ও রূপনারায়ণ, এই তিন নদ-নদীই কানায় কানায় বইছে। তার জেরে বৃহস্পতিবার খানাকুলের কিছু নীচু এলাকায় জল ঢুকেছে। মাঠ ও কিছু রাস্তায় জল উঠে গিয়েছে। যাত্রীদের সুরক্ষায় এদিন বিকেল থেকে সমস্ত খেয়া পারাপার বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। একইসঙ্গে জল বাড়তে থাকায় নদী বাঁধের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। হুগলির জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি বলেন, জল বাড়ছে নদীগুলিতে। পরিস্থিতি অনুযায়ী সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসন প্রস্তুত আছে। সেচদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত পাওয়া খবরে ডিভিসি দুর্গাপুর ব্যারাজ থেকে এক লক্ষ ৪৪ হাজার কিউসেক হারে জল ছেড়েছে। দামোদর ও মুন্ডেশ্বরী নদী দিয়ে তা আরামবাগ মহকুমায় ঢুকবে। কিন্তু ইতিমধ্যেই দামোদর চাঁপাডাঙায় বিপদসীমা অতিক্রম করে গিয়েছে। মুন্ডেশ্বরী নদীর জলস্তর বিপদসীমা ছুঁইছুঁই। রূপনারায়ণও কানায় কানায় ভর্তি। তবে দ্বারকেশ্বর নদে জল কিছুটা কমছে। জল বাড়তে থাকায় নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কে। একইসঙ্গে বাঁধের বেহাল অবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশও করেছেন তাঁরা। কিছু জায়গায় নদী বাঁধে ধসও নামছে বলে দাবি বাসিন্দাদের। এদিন পুরশুড়ার বিধায়ক বিমান ঘোষ আরামবাগ ব্লকের বেশকিছু মুন্ডেশ্বরী লাগোয়া গ্রামে ঘোরেন। যেখানে ধস নেমেছে সেখানে দ্রুত মেরামতির নির্দেশও দেন। পাশাপাশি মাইকিং করে বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার বার্তাও দেন। এদিন আরামবাগের বিধায়ক হেমন্ত বাগ, খানাকুলের সুশান্ত ঘোষও বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন। হুগলির অতিরিক্ত জেলাশাসক অনুজ প্রতাপ সিংও খানাকুলের একাধিক জায়গায় ঘুরে বাসিন্দাদের সতর্ক করেছেন। সুশান্তবাবু বলেন, খানাকুলের মারোখানা, জগৎপুর, ধান্যঘোরি, রাজহাটি ১ প্রভৃতি পঞ্চায়েত এলাকার একাংশে জল ঢুকে গিয়েছে। এদিন হরিণখোলা এলাকায় মুন্ডেশ্বরী নদীর তীরবর্তী ছান্দ্রা, ঘোলতাজপুর, আমগ্রাম, অরুণবেরা প্রভৃতি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, নদী বাঁধের গা ঘেঁষে বইছে। কিছু জায়গায় ধস নামার উপক্রম হয়েছে। বাসিন্দাদের নিরাপদে সরাতে প্রশাসনিক তৎপরতাও চোখে পড়ে। তবে বাঁধ মেরামতি নিয়ে বাসিন্দারা অসন্তোষ প্রকাশ করেন। হরিণখোলা এলাকার বাসিন্দা শুভঙ্কর পোড়েল, সনাতন সাঁতরা, অরূপ মালরা বলছেন, বছর দুয়েক আগে ভয়াবহ বন্যায় নদীর বাঁধ একাধিক জায়গায় ভেঙেছিল। তারপর সেখানে শক্তপোক্ত ভাবে বাঁধা হয়নি। তার জেরে এবার সেইসব স্থানগুলি নিয়ে আমরা চিন্তায় রয়েছি।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ