মুম্বই: একটা সময় নাইট রাইডার্সের ক্রিকেটাররা দলের মালিক শাহরুখ খানের পাড়ায় খেলতে যেতে ভয় পেতেন। কারণ, ওয়াংখেড়েতে কেকেআর’কে বলে বলে হারাতেন রোহিত শর্মারা। পরিসংখ্যান বলছে, দুই দল আইপিএলে মুখোমুখি হয়েছে ৩৪ বার। তার মধ্যে মুম্বই ২৩ বার জিতেছে। আর কেকেআরের সাফল্যের সংখ্যা ১১। বর্তমান পরিস্থিতিতে এগুলো মূল্যহীন। দুই দলের অবস্থান বদলাচ্ছে দ্রুত। কেকেআর গতবারের চ্যাম্পিয়ন। মুম্বই ছিল সবার শেষে। সোমবার ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ফের মুখোমুখি দুই দল। প্রথম ম্যাচে হারের ধাক্কা সামলে জয়ের মুখ দেখেছেন রাহানেরা। কিন্তু মুম্বইয়ের অবস্থা খুবই খারাপ। পর পর দুই ম্যাচ হেরে তারা প্রবল চাপে। এই সুযোগটাই কাজে লাগাতে চাইছে নাইট ব্রিগেড।
সুনীল নারিনের সুস্থ হয়ে ওঠা কেকেআর শিবিরকে আরও তরতাজা করেছে। ক্যারিবিয়ান তারকা অলরাউন্ডার বিপক্ষের যাবতীয় কৌশল ভেস্তে দিতে পারেন। ওপেনার হিসেবে গত ম্যাচে বড় রান পেয়েছিলেন কুইন্টন ডি’কক। তাঁর সঙ্গী হিসেবেই দেখা হচ্ছে নারিনকে। কারণ, কোচ চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত জানিয়ে দিয়েছেন, নারিন পুরো ফিট। মাঠে নামার জন্য তৈরি। তারপর রাহানে, রঘুবংশী ও বেঙ্কটেশ আয়ারকে নামানো হবে পরিস্থিতি অনুযায়ী। কেকেআরের মিডল অর্ডার এখনও সেভাবে নজর কাড়েনি। তবে আন্দ্রে রাসেল, রিঙ্কু সিং, রমনদীপ সিংদের ক্ষমতা রয়েছে দলকে টেনে তোলার।
অন্যদিকে, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ঘরের মাঠে ঘুরে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করবে। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের ব্যাটিং কাগজে-কলমে দুর্দান্ত। রোহিত শর্মার সঙ্গে শুরুতে রিকেলটনকে নামানো হচ্ছে। তবে গত দু’টি ম্যাচেই এই জুটি ব্যর্থ। ফলে পরিবর্তনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। মুম্বইয়ের ব্যাটিংয়ের সেরা দুই স্তম্ভ সূর্যকুমার যাদব, তিলক ভার্মা। তাঁদের দ্রুত ফেরাতে মিস্ট্রি স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী ও সুনীল নারিনকেই হাতিয়ার করতে চাইবেন ক্যাপ্টেন রাহানে। হোমটিমের ব্যাটিং অর্ডারে পরের দিকে হার্দিক পান্ডিয়া, রবিন মিনজ, নমন ধীর, মিচেল স্যান্টনাররা রয়েছেন।
ওয়াংখেড়ের পিচে শুরুতে পেসাররা সুবিধা পেয়ে থাকেন। তাই নতুন বলে কেকেআরকে চেষ্টা করতে হবে দু’একটা উইকেট তুলে নেওয়ার। দুই পেসার বৈভব অরোরা ও হর্ষিত রানার সঙ্গে শেষ দু’ম্যাচে বাঁ-হাতি স্পেনসার জনসনকে খেলানো হয়েছে। তাতে খুব একটা লাভ হয়নি। অ্যানরিখ নর্তজে ফিট থাকলে তাঁকে হয়তো জনসনের পরিবর্ত হিসেবে ভাবা হবে। আর সুনীল নারিন প্রথম একাদশে ঢুকতে পারেন মঈন আলির জায়গায়।
অনেকেই আশা করেছিলেন, হার্দিকের নেতৃত্বে এবার অন্য মেজাজে পাওয়া যাবে মুম্বইকে। কিন্তু এখনও তা হয়নি। গত ম্যাচে হার্দিকের মন্থর ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সমর্থকদের রোষানলে রোহিত শর্মাও। ছন্দে নেই পেসার ট্রেন্ট বোল্ট। বয়সের ছাপ স্পষ্ট তাঁর খেলায়। দীপক চাহারও বড়ই সাদামাটা বোলিং করছেন। দক্ষ স্পিনারের অভাবও ধরা পড়েছে। স্যান্টনার উইকেট নিতে পারছেন না। তাই নাইটদের বিরুদ্ধে নবাগত ভিগনেশ পুথুরকে দলে ফেরানো হতে পারে।