মুম্বই: আইপিএলের সফলতম দুই দলের দ্বৈরথ। মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ও চেন্নাই সুপার কিংস— উভয়ের ক্যাবিনেটেই রয়েছে পাঁচটি করে ট্রফি। এই লড়াই তাই চিহ্নিত হয় কোটিপতি লিগের ‘এল ক্লাসিকো’ হিসেবে। তবে পারফরম্যান্সের নিরিখে এবার দুই দলেরই অবস্থা করুণ। চেন্নাই রয়েছে সবার নীচে। সাত ম্যাচের মধ্যে হেরেছে পাঁচটিতে। পকেটে মাত্র ৪ পয়েন্ট। মুম্বই তুলনায় সামান্য ভালো। সাত ম্যাচে জয় এসেছে তিনটিতে। ৬ পয়েন্টে তারা রয়েছে সপ্তম স্থানে। প্লে-অফের আশা জাগাতে হলে উভয় দলেরই জয়ের রাস্তায় থাকা প্রয়োজন।
ওয়াংখেড়েতে বৃহস্পতিবার মুম্বই ৪ উইকেটে হারিয়েছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে। অন্যদিকে, চেন্নাই অ্যাওয়ে ম্যাচে লখনউ সুপার জায়ান্টসকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে শেষ ম্যাচে। জয়ের আত্মবিশ্বাস দু’দলেরই সঙ্গী। তবে দুশ্চিন্তারও অভাব নেই।
ঘরের মাঠে মুম্বই ক্যাপ্টেন হার্দিক পান্ডিয়াকে উদ্বেগে রাখছে চেন্নাইয়ের স্পিন আক্রমণ। চায়নাম্যান নুর আহমেদ ১২ উইকেট নিয়েছেন। তার মধ্যে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষাতের জয়েও অবদান রেখেছিলেন নুর। ১৮ রানের বিনিময়ে নিয়েছিলেন চারটি উইকেট। নুর ছাড়াও রয়েছেন রবীন্দ্র জাদেজা ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন। হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে সদ্য ওয়াংখেড়েতে স্পিনাররা সহায়তা পেয়েছেন। রবিবারও পিচে বল ঘুরলে সমস্যায় পড়তেই পারে নীতা আম্বানির ফ্র্যাঞ্চাইজি। মুম্বইকে আরও চিন্তায় ফেলেছে লেগস্পিনার কর্ণ শর্মার চোট। ফলে মিচেল স্যান্টনার ও উইল জ্যাকসের উপরই ভরসা করতে হবে হার্দিকদের। অবশ্য ভিগনেশ পুথুরকেও খেলানো হতে পারে। মুম্বই অবশ্য স্ট্র্যাটেজি পাল্টে গতিময় পিচে খেলার কথাও ভাবতে পারে। কারণ, যশপ্রীত বুমরাহ, ট্রেন্ট বোল্ট, দীপক চাহার ও হার্দিকের মতো পেসাররা রয়েছেন প্রথম এগারোয়। বিশেষ করে বুমরাহ ক্রমশ ছন্দে ফিরছেন। আর রোহিতও শেষ ম্যাচে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
চেন্নাই আবার তাকিয়ে আছে মহেন্দ্র সিং ধোনির দিকে। চোটের জন্য ঋতুরাজ গায়কোয়াড় ছিটকে যাওয়ায় এখন মাহিই নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু ব্যাটিং দুর্বলতা স্পষ্ট হচ্ছে ক্রমশ। রাহুল ত্রিপাঠি, শিবম দুবে, বিজয় শঙ্কর, রবীন্দ্র জাদেজা, দীপক হুদারা ব্যাটে ভরসা জোগাতে ব্যর্থ। কিউয়ি ওপেনার ডেভন কনওয়েও বাদ পড়েন লখনউয়ের বিরুদ্ধে। আর এক কিউয়ি ওপেনার, রাচীন রবীন্দ্র ধারাবাহিক নন। তবে তরুণ তুর্কি শাইক রশিদ নজর কেড়েছেন ওপেনিংয়ে। ধোনিও লখনউ ম্যাচে পুরনো মেজাজে ফিনিশার হিসেবে দেখা দিয়েছেন। ম্যাচের সেরাও হয়েছেন। কিন্তু ৪৩ বছর বয়সে হাঁটুর চোট সামলে ধোনিকেই ম্যাচ জেতাতে হলে বাকিদের অবস্থা সহজেই অনুমেয়।