Bartaman Logo
৩১ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

একাধিক দুর্নীতি: দুই ২৪ পরগনায় পুলিশের জালে আট তৃণমূল নেতা

বিভিন্ন অভিযোগে শুক্রবার ও শনিবার দু’দিনে দুই ২৪ পরগনা মিলিয়ে আটজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। জাল জাতিগত শংসাপত্র তৈরির অভিযোগে বনগাঁ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ প্রসেনজিৎ ঘোষ ও তাঁর স্ত্রী ছয়ঘরিয়া পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান উমা ঘোষকে গ্রেপ্তার করল বনগাঁ থানার পুলিশ।

একাধিক দুর্নীতি: দুই ২৪ পরগনায় পুলিশের জালে আট তৃণমূল নেতা
  • ৩১ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: বিভিন্ন অভিযোগে শুক্রবার ও শনিবার দু’দিনে দুই ২৪ পরগনা মিলিয়ে আটজনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। জাল জাতিগত শংসাপত্র তৈরির অভিযোগে বনগাঁ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ প্রসেনজিৎ ঘোষ ও তাঁর স্ত্রী ছয়ঘরিয়া পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান উমা ঘোষকে গ্রেপ্তার করল বনগাঁ থানার পুলিশ। শনিবার তাঁদের বনগাঁ আদালতে তোলা হলে পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। অভিযোগ, প্রসেনজিৎ প্রধান থাকাকালীন স্ত্রীর জাল এসসি সার্টিফিকেট তৈরি করতে পঞ্চায়েত প্রধানের একাধিক জাল সার্টিফিকেট প্রদান করেছিলেন। আর সেই সার্টিফিকেটের উপর ভিত্তি করেই স্ত্রী উমা ঘোষের জাল এসসি সার্টিফিকেট তৈরি করেন। 

Advertisement

জানা গিয়েছে, ২০২৩ পঞ্চায়েত নির্বাচনে জিতে পঞ্চায়েত প্রধান হন উমা ঘোষ। পদটি তফসিলি সংরক্ষিত হওয়ায় অনেকের মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। ২০২২ সাল থেকে জাল এসসি সার্টিফিকেটের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছিল মতুয়া সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা। তালিকায় ছিলেন উমাদেবী। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মহকুমা শাসক। কিন্তু পদক্ষেপ হয়নি। তারপর প্রধান পদ থেকে ইস্তফা দেন। জাতিগত শংসাপত্র বাতিল হয়। ৪ মে বনগাঁ পুলিশ সুপারের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করে মতুয়া সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা। ২৩ মে বনগাঁ থানাকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার। ২৫ তারিখ পুলিশ তদন্ত শুরু করে। এরপরই দু’জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 
অন্যদিকে, বসিরহাট পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার গোপাল দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে উপভোক্তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা  তুলতেন তিনি। স্থানীয়দের দাবি, যারা টাকা দিতে পারেননি তাঁরা ঘর পাননি। আবার অনেকে টাকা দিয়েও আবাসের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের একটি পুরানো মামলায় গ্রেপ্তার হন আনিসুর। টিটাগড় পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের পদত্যাগী কাউন্সিলার ইনাম খানকে গ্রেপ্তার করেছে খড়দহ থানার পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও হুমকি দেওয়া-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়ে পুলিশ। ইনাম খান শুক্রবার পদত্যাগ করেছিলেন। আর শনিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হল। এলাকাবাসীর অভিযোগ, হুমকি, তোলাবাজি, জোর করে জমি দখলের পাশাপাশি নানা অসামাজিক কাজেও জড়িত ছিলেন ওই কাউন্সিলার। কিন্তু তৃণমূলের জমানায় তাঁর বিরুদ্ধে কেউ সাহস করে অভিযোগ দায়ের করতে পারেননি। তবে পালাবদলের পরই খড়দহ থানায় ইনাম খানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। বুলডোজার দিয়ে টিটাগড়ে বেআইনি নির্মাণ ভেঙে দেওয়া হয়। তার মধ্যে ইনাম খানের পার্টি অফিসও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। 
তিনটি আলাদা ঘটনায় দক্ষিণ ২৪ পরগনায় চার তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাছ চুরির অভিযোগে রাজপুর-সোনারপুরের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার বরুণ সরকারকে শনিবার গ্রেপ্তার করে নরেন্দ্রপুর থানা। এর পাশাপাশি জয়নগর ১ নম্বর ব্লকে সরকারি ত্রাণসামগ্রী আত্মসাৎ ও অবৈধভাবে মজুত রাখার অভিযোগে জয়নগর থানা গ্রেপ্তার করে পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ঋতুপর্ণা বিশ্বাস ও তাঁর স্বামী তুহিন বিশ্বাসকে। এছাড়াও সরকারি ত্রাণসামগ্রী বেআইনিভাবে মজুতের অভিযোগে বারুইপুর পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য ও কৃষি কর্মাধ্যক্ষ সুধাংশু নস্করকে গ্রেপ্তার করে বারুইপুর থানা।

সম্পর্কিত সংবাদ