Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ধোনিকে ইনিংস উত্সর্গ মুকুলের

‘রোনে সে কুছ হোতা হ্যায় কেয়া?’ সন্দীপ দ্বিবেদীর কবিতার বিখ্যাত লাইনটা বৃহস্পতিবার রাতে দলীপ চৌধুরির হোয়াটস্যাপ স্ট্যাটাসে জ্বলজ্বল করছিল।

ধোনিকে ইনিংস উত্সর্গ মুকুলের
  • ১১ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:০৪
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘রোনে সে কুছ হোতা হ্যায় কেয়া?’ সন্দীপ দ্বিবেদীর কবিতার বিখ্যাত লাইনটা বৃহস্পতিবার রাতে দলীপ চৌধুরির হোয়াটস্যাপ স্ট্যাটাসে জ্বলজ্বল করছিল। তাঁর ছেলে মুকুল যে ইডেনে অসাধ্য সাধন করেছেন! কেকেআরের বিরুদ্ধে প্রায় হারতে বসা ম্যাচে লখনউ সুপার জায়ান্টসকে এনে দিয়েছেন অবিশ্বাস্য জয়। তারপর থেকে ক্রিকেট মহলে জোর চর্চা চলছে অচেনা নায়ককে ঘিরে। ম্যাচের পর মুকুল বাবাকে ফোন করতেই দলীপ জিজ্ঞাসা করেন, ‘বেটা রো লিয়া?’ তারপর দু’জনেই কেঁদেছেন। না, এটা দুঃখের নয়, আনন্দাশ্রু। দীর্ঘদিনের কঠোর পরিশ্রমের পর সাফল্য পাওয়াটা অবশ্যই আবেগের। মুকুলকে ক্রিকেটার বানাতে অনেক আত্মত্যাগ করেছেন দলীপ। ইডেনে খেলার শেষে বাবাকে কুর্নিশ জানাতে ভোলেননি তিনি।

Advertisement

পাশাপাশি ম্যাচ জেতানো ইনিংস এক বিশেষ ব্যক্তিকে উৎসর্গ করেছেন মুকুল। তিনি মহেন্দ্র সিং ধোনি। আসলে তাঁকে অনুপ্রেরণার আসনে বসিয়েই সামনে হেঁটেছেন এলএসজি’র উদীয়মান ব্যাটার। শৈশবে হাজার প্রকিবন্ধকতার মধ্যেও মাহির ব্যাটিং স্বপ্ন দেখাত রাজস্থানের ঝুনঝুনুর তরুণ। বিশেষ করে হেলিকপ্টার শটের ফ্যান ছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার ইডেনেও তো গুরুর আদলে বৈভব অরোরাকে হেলিকপ্টার শটে ছক্কা মেরেছেন। মুকুলের কথায়, ‘ধোনিই আমার আইডল। ২০১১ বিশ্বকাপ ফাইনালের সেই হেলিকপ্টার শট এখনও আমার হৃদয়ে টাটকা। ম্যাচ ফিনিশ করার দক্ষতা, কিপিং— সবকিছুই অনুকরণের চেষ্টা করি। তাঁর মত আমিও ৬-৭ নম্বরে ব্যাট করি। কিপিংও করতাম। তাই এই ইনিংস বাবার পাশাপাশি মহেন্দ্র সিং ধোনিকেও উত্সর্গ করতে চাই।’ উল্লেখ্য, হেলিকপ্টার শট সহ কেকেআরের বিরুদ্ধে মোট সাতটি ছক্কা হাঁকান মুকুল। পাওয়ার হিটিং প্রসঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘এটাই আমার খেলার স্বাভাবিক ধরন। তবে গত ৫-৬ মাস ধরে দিনে ১০০-১৫০টা ছক্কা হাঁকানোর প্র্যাকটিস করেছি। তাতে দারুণ উপকৃতও হয়েছি।’
লখনউয়ের ক্যাপ্টেন ঋষভ পন্থ ও কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গারকেও কৃতিত্ব দিয়েছেন মুকুল। তাঁর সংযোজন, ‘এবার আইপিএলে প্রথম দু’টি ম্যাচে বড় রান পাইনি। তাই একটু হতাশ ছিলাম। এই অবস্থায় ঋষভ ভাই নিজে এসে আমার সঙ্গে কথা বলে। কোথায় সমস্যা হচ্ছে, জানতে চায়। ক্যাপ্টেন বলেছিল, ফলের কথা না ভেবে চিন্তামুক্তভাবে খেলতে। সেটা খুবই কাজে লেগেছে।’ কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার তো প্রস্তুতি শিবিরেই মুকুলের প্রতিভা ঠাহর করেছিলেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় লখনউ সুপার জায়ান্টসের পোস্ট করা এক ভিডিয়োতে মুকুলের উদ্দেশে অজি হেডমাস্টারকে বলতে শোনা যায়, ‘আগামী ছয় মাসে তোমায় ভারতের সবচেয়ে বিধ্বংসী ফিনিশার বানাব।’
এই প্রসঙ্গে মুকুলকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘এত বড়ো কোচ যখন এমন কথা বলেন, তখন আত্মবিশ্বাস এমনিতেই বেড়ে যায়। স্যার খুবই সাহায্য করেন। অনুশীলন শেষে আলাদা করে আমায় ১০-১৫ মিনিট ব্যাটিং প্র্যাকটিস করান।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ