


সংবাদদাতা, বজবজ: বিজেপির ডায়মন্ডহারবার সাংগঠনিক জেলায় দলের ভিতরে পুরাতন ও নতুনদের মধ্যে কোন্দলে ছন্নছাড়া পরিস্থিতি। খাতাকলমে লোকদেখানো ঐক্য হলেও বাস্তবে এখনো একজোট করা যায়নি। এমনটাই অভিযোগ দলের একটি অংশের। তা আরো প্রকট হল শনিবার মহেশতলার বাটা মোড়ে পরিবর্তন রথযাত্রার অন্তিম অনুষ্ঠান কর্মসূচিতে। কেন পরিবর্তন প্রয়োজন? মিঠুন চক্রবর্তীর মতো একজন হেভিওয়েট ব্যক্তির মুখ দিয়ে সেই বার্তা দিলে হয়তো গ্রহণযোগ্য হতে পারত। কিন্তু তা হতে পারল না।
দলের ভিতরে ফাটল এতটাই চওড়া যে, সামান্য ছবি তোলা নিয়ে মিঠুনের উপস্থিতিতেই কিছু কার্যকর্তা বিশৃঙ্খলা বাধালেন। এক মহিলা সদস্যকে মঞ্চ থেকে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। অনুষ্ঠান শেষে তাঁর প্রতিবাদকে কেন্দ্র করে বেশ ঝামেলা হয়। দলের এই বিশৃঙ্খলা দেখে ভয়ানক বিরক্ত হন মিঠুন স্বয়ং। সকলকে শান্ত করে পরিবর্তন নিয়ে বলার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোনো নেতাকে এগিয়ে আসতে দেখা গেল না। দলের একাধিক কর্মীর কথায়, বরং সকলে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এই তামাশাই উপভোগ করলেন! সব মিলিয়ে অসম্মানিত বোধ করে মিঠুন মাঝপথেই বেরিয়ে গেলেন। দলের কোনো নেতা তাঁকে আটকালেনও না। এই ঘটনায় আম জনতার কাছে মুখ পুড়েছে পদ্ম শিবিরের। ডায়মন্ডহারবার সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্বের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ল। এই সংগঠনের ভরসায় পরিবর্তনের বার্তা দিলে মানুষ যে তা নেবে না তা এদিনই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।
দলের ভিতরে এই চর্চাও চলছে যে, দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে অনভিজ্ঞ নেতৃত্বের হাতে। তৃণমূলকে মোকাবিলা ছেড়ে তাদের টার্গেট কেবলই দলের পুরাতনদের কোণঠাসা করা। স্বভাবতই পুরাতনরা এগিয়ে এসেও চুপচাপ হয়ে গিয়েছেন। তাই পরিবর্তন রথ ব্যাপক ফ্লপ হয়েছে।
বাটা মোড়ে এত বড়ো একটা কর্মসূচিতে অভিজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হয়নি বলেই কথা উঠেছে। দলের বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর বক্তব্য, মিঠুনের মতো হেভিওয়েট বক্তার জন্য মঞ্চ চওড়া ও উঁচু করার পরামর্শ দেন দলের পুরাতনরা। মঞ্চের চারদিকে ব্যারিকেডও করতে বলা হয়। মঞ্চের উপরে কেবল নির্দিষ্ট কয়েকজন জেলা ও রাজ্য নেতাকে থাকার জন্য বলা হয়েছিল। কিন্তু মঞ্চের উপর জমে ওঠা ভিড়ই প্রমাণ করেছে সমন্বয়ের অভাব ঘটেছিল কতখানি। এমনিতে মঞ্চ ছোট এবং ভীষণ নীচু হওয়ায় ব্যাপক ঠেলাঠেলি হয়েছে।
ডায়মন্ডহারবার, মথুরাপুর এবং জয়নগর তিন সাংগঠনিক জেলার ইনচার্জ দীপঙ্কর জানার দাবি, দলের নতুন ও পুরাতনদের ভিতর কোনো বিরোধ নেই। কারো কারো ব্যক্তিগত মতবিরোধ থাকতেই পারে। কিন্তু দলের কর্মসূচিতে সকলে একজোট হয়েছেন। তাঁর আরো দাবি, আমতলা থেকে বাটা মোড় পর্যন্ত পরিবর্তন যাত্রায় ভালো সাড়া পাওয়া গিয়েছে। মানুষ তা দেখেছেও।
মাঝপথে মিঠুনের চলে যাওয়া প্রসঙ্গে দীপঙ্করবাবু বলেন, ছোটো মঞ্চের জন্য সকলকে জায়গা দেওয়া যায়নি। তবে কোনো উচ্ছৃঙ্খলতা আমার নজরে আসেনি। তাঁর দাবি, অনেক অনুরোধ করার পরই মিঠুন চক্রবর্তী আসতে রাজি হয়েছিলেন। তাও মাত্র দশ মিনিটের জন্য। তাঁর সময় হয়ে যেতেই তিনি মঞ্চ ছেড়েছেন। মিঠুন কোনোভাবেই রাগ করে চলে যাননি।