Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মৃত ব্রহ্মচারীর রোষ থেকে বাঁচতেই ঢেকা গ্রামে প্রাচীন বট গাছের তলায় শুরু পুজো

মৃত ব্রহ্মচারীর রোষ থেকে বাঁচতেই ঢেকা গ্রামে প্রাচীন বট গাছের তলায় শুরু পুজো
  • ১৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ময়ূরেশ্বরের ঢেকা গ্রামে শুরু হয়েছে ব্রহ্মদৈত্যের মেলা। বহুবছর ধরে এই গ্রামের জনশূন্য মাঠে প্রাচীন বটগাছকে ঘিরে ব্রহ্মদৈত্যের পুজোর পাশাপাশি একদিনের মেলা বসে। প্রাচীন রীতি অনুযায়ী বটগাছের গোড়ায় মাটির ঢিল ছুঁড়ে প্রণাম করেন মেলায় আসা মানুষজন। মেলাটি এলাকায় ভূত মেলা নামেও পরিচিত। ক্রেতাবিক্রেতারা অন্ধকার ঘনিয়ে আসার আগেই মেলা ছাড়েন।
Advertisement
জনশ্রুতি অনুযায়ী, রাজাদের আমলে এই বটগাছের তলায় এক ব্রহ্মচারী থাকতেন। সেসময় অনেকেই তাঁকে ব্রহ্মদৈত্য বলতেন। তিনি বলেছিলেন, পয়লা মাঘ যদি তাঁর পুজো ও মেলা না করা হয়, তাহলে গ্রামবাসীরা তাঁর কোপে পড়বেন। ওই ব্রহ্মচারীর মৃত্যুর পর তাঁর কোপে পড়ার আশঙ্কায় সেই বটগাছের নীচে তাঁর পুজো ও মেলার সূচনা করেন গ্রামবাসী। ওই ব্রহ্মচারীর কোনও ছবি না থাকায় বটগাছকেই ব্রহ্মদৈত্য হিসেবে পুজো করা হয়। বটগাছের স্থায়িত্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে তার গোড়ায় ‘ব্রহ্মদৈত্যের নৈবেদ্য’
হিসেবে একটি করে মাটির ঢিল এনে দেন মেলায় আসা মানুষ। বছরের পর বছর ওই মাটির ঢেলা জমা হতে হতে ওই এলাকা বড়সড় চত্বরে পরিণত হয়েছে।
মেলায় দুরদুরান্ত থেকে অনেকে নিজেদের হাতে তৈরি শিল্পসামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেন। কেউ কেউ খাবার ও বাচ্চাদের খেলনার দোকানও দিয়েছেন। পাঁচ পুরুষেরও বেশি সময় ধরে এই ব্রহ্মদৈত্য পুজো করে আসছে দেবীপ্রসাদ মিশ্রর পরিবার। বছর সত্তরের দেবীপ্রসাদবাবু বলেন, আমার পূর্বসূরীরা রাজা রামজীবনের রাজপুরোহিত ছিলেন। তাঁরও অনেক আগে থেকে এই মেলা হয়ে আসছে। বিভিন্ন তিথিতে ব্রহ্মদৈত্যর পুজো ও বলিদান হয়। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এখানে আসেন। এদিন মেলায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পর্যাপ্ত পুলিস ও সিভিক ভলান্টিয়ার মোতায়েন ছিল।
সম্পর্কিত সংবাদ