Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মাশরুম চাষ করে সংসার চালাচ্ছেন দৃষ্টিহীন ৮ যুবক 

মাশরুম চাষ করে সংসার চালাচ্ছেন দৃষ্টিহীন ৮ যুবক 
  • ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: কেউ ৬০, কেউ ৮০ শতাংশ, কেউ পুরোপুরি দৃষ্টিহীন। তবুও হার না মানার অদম্য ইচ্ছেশক্তি। শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে সঙ্গে করে নিয়ে সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে ওঠার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন আট যুবক। হাতে-কলমে কাজ শিখে এখন নিজেরা ব্যবসায়ী হয়ে উঠেছেন। চাষ করছেন মাশরুমের। বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে মানুষের নজর কেড়েছেন সুব্রত ভৌমিক, অজয় মাইতি, প্রদীপকুমার মাঝিরা। 
Advertisement
এঁরা বিশেষভাবে সক্ষম। আর পাঁচজনের থেকে আলাদা। তবুও কিছু করে দেখানোর জেদে ভর করে এখন এগিয়ে যাচ্ছেন। তাঁদের পরিচিতদের বক্তব্য, কোনও প্রতিবন্ধকতাই লক্ষ্যে পৌঁছনর ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। তা এই ক’জন দেখিয়ে দিল।
অজয়, সুব্রতরা নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনে মাশরুম তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। তারপর কী করবেন তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেন। সুব্রত ঠিক করেন, টাকা লগ্নি করে মাশরুম চাষ শুরু করবেন। তিনি সঙ্গে নেন বাকি সাতজনকে। বছর দুই আগে গোবিন্দপুরে তিন হাজার বর্গমিটারের দু’টি ঘর তৈরি করেন। সেখান থেকে শুরু হয় যাত্রা। আপাতত দু’ধরনের মাশরুম চাষ করছেন। একটি হল, ওয়েস্টার যা মূলত শীতকালে হয় এবং দ্বিতীয়টি হল, মিল্কি মাশরুম। এটি সাধারণত গরম এবং বর্ষাকালে চাষ করা হয়। সুব্রতবাবু বলেন, ‘কাজ শিখে ঘরে বসে থাকতে চাইনি। কোথাও কোনও সাহায্য না পেয়ে নিজেরাই পুঁজি দিয়ে এই কাজ শুরু করেছি।’ অজয়ের কথায়, ‘আমাদের এখানে দৃষ্টিহীনরাই কাজ করেন। যাঁরা অল্প হলেও দেখতে পান, তাঁদের এক ধরনের কাজ আর যাঁদের একেবারেই দৃষ্টিশক্তি নেই, তাঁদের দেওয়া হয়েছে অন্য দায়িত্ব। 
বর্তমানে এই ফার্ম থেকে দৈনিক ২৫ থেকে ৩০ কেজি মাশরুম উৎপাদিত হয়। কোনও কোনও দিন ৪০ কেজি ছাড়িয়ে যায়। তাঁদের আক্ষেপ, মাশরুম বিক্রির জন্য ভালো মার্কেটিংয়ের সুযোগ করে দেয়নি কেউ। তাই নিজেরাই বিভিন্ন স্টেশনে, কখনও মেলায় বিক্রি করেন। মাসে একেকজন প্রায় আট হাজার টাকা লাভ করেন। তাঁদের আবেদন, উৎপাদিত মাশরুম ঠিকমতো বিক্রি করতে পারার ব্যবস্থা করে দিক সরকার।  নিজস্ব চিত্র
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ