নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: টাকা নেই। তাই দীর্ঘদিন আটকে ঠিকাদারদের বকেয়া, কর্মীদের ওভার টাইম, ওয়ার্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড কমেছে, সমস্ত দপ্তরকে বাজেট কাটছাঁট করতে বলা হয়েছে। এই অবস্থার মধ্যেও দক্ষিণ দমদম পুরসভা মাসে এক লক্ষ টাকা খরচ করে আইনজীবী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিল। এই সিদ্ধান্তে বিতর্কের ঝড় উঠেছে পুরসভার চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিলের (সিআইসি) বৈঠকে। বিজ্ঞাপন বা ইন্টারভিউ ছাড়া এবং রাজ্যের আইনবিভাগ ও নগোরন্নয়ন দপ্তরের অনুমতি ছাড়া এই নিয়োগ বেআইনি বলে মত অধিকাংশ সদস্যের। অভিযোগ, আয় কমে যাওয়ার অজুহাত দিয়ে এবারের বাজেটে খরচ কমানোর কথা বলা হচ্ছে। অথচ এর মধ্যে পুরসভার ইতিহাসে এই প্রথম মাসে এক লক্ষ টাকা খরচ করে দু’জন আইনজীবী রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোনও নিয়ম না মেনে হচ্ছে এই বেআইনি নিয়োগ। তবে পুরসভার চেয়ারম্যান অভিযোগ উড়িয়ে বলেছেন, ‘তিন মাস আগে সিআইসি ও বোর্ড মিটিংয়ে সর্বসম্মতভাবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এখন কারা কি কারণে বেআইনি বলছেন তা আমি বলতে পারব না।’
Advertisement
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্য সরকার বহুতল তৈরিতে অনিয়ম রুখতে অফ লাইনে বিল্ডিং প্ল্যান পাস, রিভাইজড প্ল্যান পাস বন্ধ করতে কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। ফলে এই খাতে পুরসভার আয় কমবে। এর পাশাপাশি গত কয়েক বছর ধরে পুরসভার আয় কমলেও ব্যয় বেড়েছে। ফলে ঠিকাদারদের বকেয়া আটকে। কর্মীদের ওভারটাইম বন্ধ। ওয়ার্ড ডেভেলপমেন্ট ফান্ড কমেছে। বহুতল থেকে আয় কমার আশঙ্কায় পুরসভার সমস্ত বিভাগকে বাজেট কমাতেও বলা হয়েছে। এ নিয়ে সিআইসি বৈঠকে অনেকেই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। এবং সামনে ভোট আছে বলে গত বছরের তুলনায় বাজেট ৪০ শতাংশ বৃদ্ধির দাবিও তুলেছেন। এই পরিস্থিতিতেই চার ফেব্রুয়ারি পুরসভা নিয়োগের নির্দেশিকা প্রকাশ করে দেয়। এ ঘটনা কাউন্সিলারদের ক্ষোভে ঘৃতাহুতি দেয়। নির্দেশিকায় বলা, ৩১ জানুয়ারি বোর্ড মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দু’জন আইনজীবীকে পুরসভার প্যানেল আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁরা পুরসভার আইন সেলে পরামর্শ দেবেন। দু’জনকে মাসে ৫০ হাজার টাকা করে ফি দেওয়া হবে। এই নির্দেশিকা প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় হইচই। কারণ, পুরসভার আইনি বিষয় দেখার জন্য একজন আইনজীবী ইতিমধ্যেই রয়েছেন। তিনি মামলাভিত্তিক ফি নেন। কিন্তু মাসে বাঁধা ফি দিয়ে আজ পর্যন্ত কোনও আইনজীবী দক্ষিণ দমদমে নিয়োগ করা হয়নি। কাউন্সিলারদের একাংশের বক্তব্য, ‘দুই আইনজীবীকে কোন প্রক্রিয়ায় মাসিক বেতনে নিয়োগ করা হল। নিয়োগের বিজ্ঞাপন, ইন্টারভিউ হয়নি। রাজ্যের অনুমতি ছাড়া এই নিয়োগ বেআইনি।’ বুধবার পুরসভার সিআইসি বৈঠকে নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক হয়। একাধিক সিআইসি প্রতিবাদ জানান। সিআইসি(জল ও শিক্ষা) মৃন্ময় দাস বলেন, ‘প্যানেলে আইনজীবী নিয়োগের কথা আলোচনা হলেও মাসিক বেতনে রাখার কথা বলা হয়নি। আমাদের অন্ধকারে রেখে বেআইনি নিয়োগ করা হয়েছে। পুরসভার ইতিহাসে এ ঘটনা নজিরবিহীন।’ যদিও চেয়ারম্যান কস্তুরি চৌধুরি বলেছেন, ‘নভেম্বর মাসে সিআইসি ও বোর্ডে আলোচনা হয়েছে। সর্বসম্মতভাবে আইনজীবী নিয়োগ হয়েছে। তিন মাস পর কী উদ্দেশে প্রতিবাদ, কীভাবে নিয়োগ বেআইনি তা বুঝতে পারছি না।’



