নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: সামান্য হাসি-ঠাট্টা থেকে খুনোখুনির ঘটনায় উত্তপ্ত দক্ষিণ দমদমের প্রমোদনগর। বুধবার সাত সকালে দুই ব্যক্তির মধ্যে চসা-মারপিট শুরু হয়। সেই সময় রাগে উন্মত্ত একজন অপরজনের দু’চোখের মধ্যে আঙুল ঢুকিয়ে তা উপড়ে ফেলার চেষ্টা করে। স্থানীয়রা বাধা দিতে গেলে আধলা ইট ছুড়ে মারতে থাকে ওই ব্যক্তি। এরপর সবাই দলবদ্ধ হয়ে চড়াও হয়ে পিটিয়ে মারে তাকে। দমদম থানার পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম গোকুল মণ্ডল (৪২)। চোখে গুরুতর আঘাত নিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন প্রদীপ সরকার। তাঁর চোখ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন চিকিৎসকরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে ঘটনার বেশ কিছুটা পরে পুলিস পৌঁছনোয় নিয়ে এলাকাবাসী প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে খবর, দক্ষিণ দমদম পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তিন নম্বর প্রমোদনগরের বাসিন্দা গোকুল মণ্ডল। ক্ষ্যাপাটে স্বভাবের গোকুল চোখে কম দেখতেন। এর ওর থেকে চেয়ে চিন্তে সংসার চালান। মারধর ও অত্যাচারের কারণে বহুদিন আগেই স্ত্রী-পুত্র তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন। ওই পাড়ার বাসিন্দা ছিলেন প্রদীপ সরকার। তবে ইদানিং পাশের ২নম্বর প্রমোদনগরে শ্বশুর বাড়িতে থাকছিলেন। পেশায় প্যান্ডেল শ্রমিক প্রদীপের স্ত্রী এবং এক ছেলে-মেয়ে রয়েছে। বুধবার সকাল ছ’টা নাগাদ প্রদীপ পুরনো পাড়ায় গিয়েছিলেন। সকালেই তিনি নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে।। ওই সময় নিজের বাড়ির সামনে বসেছিলেন গোকুল। তাঁকে দেখে প্রদীপ হাসি-মস্করা শুরু করেন। গোকুলের ক্ষীণ দৃষ্টি নিয়েও চলে নানা বিদ্রুপ। তাতে তেলে-বেগুনে জ্বলে ওঠেন গোকুল, তেড়ে যান প্রদীপের দিকে। রাস্তায় ফেলে তাঁর বুকের উপর বসে পড়েন। এরপর চিৎকার করে বলেন, ‘আমার চোখের জোর কম হলেও, শরীরের জোর কম না। তোর চোখ আর থাকবে না। আমি তুলে নেব।’ প্রদীপের দু’চোখে আঙুল ঢুকিয়ে দেন তিনি। সকাল ছ’টা নাগাদ আর্তনাদ আর চিৎকার চেঁচামেচি শুনে স্থানীয়রা দৌড়ে আসেন। তাঁরা গোকুলকে নিরস্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু উল্টে গোকুল সবাইকে তাড়া করেন, আধলা ইট ছুড়তে শুরু করেন। আতঙ্কে মহিলারা পালিয়ে যান। এরপর ঘর থেকে স্থানীয় বাসিন্দারা বেশি সংখ্যায় বেরিয়ে এসে গোকুলকে পাকড়াও করে। হাত-পা বেঁধে বেধড়ক মারধর আরম্ভ হয়। অপর একদল লোক সবাইকে শান্ত করে জখম গোকুল ও প্রদীপকে উদ্ধার করে। আরজি করে নিয়ে যাওয়া হয় তাঁদের। গোকুলকে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পুলিস জানিয়েছে, অনিচ্ছাকৃত খুনের মামালা রুজু করে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। জখম প্রদীপবাবুর ভাগ্নে বাপ্পা বিশ্বাস বলেন, চিকিৎসকরা বলেছেন, মামার দু’চোখই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। কোনও মতে মামাকে সুস্থ করাই আমাদের লক্ষ্য। এমন ঘটবে আমরাও স্বপ্নেও ভাবিনি। সকলের চিৎকারে ঘুম থেকে উঠে দেখলাম, মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গিয়েছে। স্থানীয় কাউন্সিলার গোপা পান্ডে বলেন, আমি জখমের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছি। এই ঘটনায় আমরাও মর্মাহত। আমরা চাই পুলিস নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনানুগ পদক্ষেপ নিক।
পুলিস জানিয়েছে, অনিচ্ছাকৃত খুনের মামালা রুজু করে গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। জখম প্রদীপবাবুর ভাগ্নে বাপ্পা বিশ্বাস বলেন, চিকিৎসকরা বলেছেন, মামার দু’চোখই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। কোনও মতে মামাকে সুস্থ করাই আমাদের লক্ষ্য। এমন ঘটবে আমরাও স্বপ্নেও ভাবিনি। সকলের চিৎকারে ঘুম থেকে উঠে দেখলাম, মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে গিয়েছে। স্থানীয় কাউন্সিলার গোপা পান্ডে বলেন, আমি জখমের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছি। এই ঘটনায় আমরাও মর্মাহত। আমরা চাই পুলিস নিরপেক্ষ তদন্ত করে আইনানুগ পদক্ষেপ নিক।



