Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ময়ূরাক্ষী কটন মিল পুনর্জীবিত করতে একাধিক পরিকল্পনা

ময়ূরাক্ষী কটন মিল পুনর্জীবিত করতে একাধিক পরিকল্পনা
  • ৩১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, বোলপুর: খয়রাশোলের ময়ূরাক্ষী কটন মিলকে পুনর্জীবিত করতে একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিল জেলা প্রশাসন। সম্প্রতি এই মিলের নতুন বোর্ড গঠিত হয়েছে। সেই বোর্ডেরই তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হল বোলপুরের মহকুমা প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন সার্কিট হাউসে। বৈঠকে রেডিমেড পোশাক তৈরির উপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বৈঠকের পর এসআরডি-এর চেয়ারম্যান অনুব্রত মণ্ডল বলেন, ময়ূরাক্ষী কটন মিলকে ঢেলে সাজতে যা যা করণীয় জেলা প্রশাসন সবই করবে। 
Advertisement
প্রসঙ্গত, বীরভূম জেলার খয়রাশোল ব্লকের পাঁচরাতে রয়েছে ময়ূরাক্ষী কটন মিল। মূলত, সূতির সুতো উৎপাদনের জন্যই পরিচিত এই মিল। ১৯৯০ সালে চালু হওয়ার পর থেকে এই মিল লাভের মুখ তো দেখেইনি, বরং এ যাবত ২২৮ কোটি টাকার বিপুল লোকসান হয়েছে। শুধু ২০২২-২৩ সালেই লোকসানের পরিমাণ প্রায় ১৫ কোটি টাকা। পরিকাঠামো ও উৎপাদিত সামগ্রী বাজারজাত করার সমস্যার কারণেই মিলের লোকসান ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী বলে জানা গিয়েছে।অথচ রাজ্যে সূতির সুতোর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বর্তমানে এই মিলে কর্মী সংখ্যা কমবেশি ১০০ জন। মিল রুগ্ন হয়ে পড়ার দরুন তাঁদের বেতন দেওয়া নিয়েও সমস্যা দেখা দেয়। বিষয়টি জানতে পেরে তৎপর হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত বছর এপ্রিল মাসে বীরভূম জেলা সফরে এসে ওই মিলের কর্মীদের ষষ্ঠ বেতন কমিশনের আওতাভুক্ত করেন তিনি। তবে লোকসান বাড়তে থাকায় একপ্রকার বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয় মিলটির। মিলটিকে ঢেলে সাজতে নতুন বোর্ড তৈরি হয়। সেই বোর্ডে রয়েছেন এসআরডিএ-এর চেয়ারম্যান অনুব্রত মণ্ডল, মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা, বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, জেলাশাসক বিধান রায়, জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ সহ জেলার অন্যান্য সরকারি প্রতিনিধি ও প্রশাসনিক প্রধানরা। বোলপুরে নবগঠিত বোর্ডের তৃতীয় বৈঠকে ‌ওই সদস্যরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি, ইন্টার্ন স্পোর্টস ও কেএমডিএর সিও রাজেশ সিনহা। বৈঠকে মূলত আধুনিক যুগের উপযোগী রেডিমেড পোশাক তৈরিতে জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। 
বৈঠক শেষে অনুব্রত মণ্ডল বলেন, ময়ূরাক্ষী কটন মিলকে কীভাবে পুনরুজ্জীবিত করা যায়, সে নিয়েই এদিন আলোচনা হয়েছে। আশা করি দ্রুত স্বমহিমায় ফিরবে এই মিল। মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা বলেন, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এই মিলের আগামী দিনের চলার পথে প্রশস্ত হবে। এর জন্য সঠিক জায়গায় মিলের বিষয়গুলি তুলে ধরা হবে। জেলাশাসক বিধান রায় বলেন, বৈঠকে আলোচিত বেশ কিছু প্রস্তাব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানানো হবে। সেগুলি অনুমোদন হলেই ময়ূরাক্ষী কটন মিলে জোরকদমে কাজ শুরু হবে। তা যদি হয় তবে এলাকার আর্থসামাজিক উন্নতি হবে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ