Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

মার্কিন মুলুকে ভারতীয় বংশোদ্ভূত তরুণ গবেষকের মৃত্যু ঘিরে রহস্য

মার্কিন মুলুকে ভারতীয় বংশোদ্ভূত তরুণ গবেষকের মৃত্যু ঘিরে রহস্য
  • ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিউ ইয়র্ক: মৌচাকে ঢিল? মার্কিন মুলুকে ভারতীয় বংশোদ্ভূত এক তরুণ গবেষকের আত্মহত্যা ঘিরে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। সুচির বালাজি (২৬) নামে ওই তরুণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) জগতের সবচেয়ে জনপ্রিয় অ্যাপ্লিকেশন চ্যাটজিটিপির স্রষ্টা ওপেনএআই-এর প্রাক্তন কর্মী। চার বছর কাজ করার পর ওই সংস্থা থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন তিনি। গত অক্টোবরে প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছিলেন, ওপেনএআই কপিরাইট আইন লঙ্ঘন করছে। চ্যাটজিটিপির মতো প্রযুক্তিগুলি ইন্টারনেটের ক্ষতি করছে। স্বাভাবিকভাবেই স্যান ফ্রান্সিসকোর ফ্ল্যাট থেকে সুচিরের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য তৈরি হয়েছে। তাহলে কি স্যাম অল্টম্যানের সংস্থা ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মুখ খোলার কারণে তাঁর উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল? উঠছে সেই প্রশ্ন। পুলিস যদিও জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, সুচির আত্মঘাতীই হয়েছেন। মৃত্যুর নেপথ্যে সন্দেহজনক কিছু নেই। গত ২৬ নভেম্বর বুচানান স্ট্রিটের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। ওপেনএআই-ও সুচিরের মৃত্যু নিয়ে সমবেদনা প্রকাশ করেছে। তবে তাতে চিঁড়ে ভিজছে না। জল্পনা বাড়িয়েছে স্যাম অল্টম্যানের বিরোধী বলে পরিচিত আরেক মার্কিন ধনকুবের এলন মাস্কের একটি পোস্ট। সুচিরের মৃত্যুসংবাদ নিয়ে এক্স হ্যান্ডলে মাস্কের সংক্ষিপ্ত অথচ ইঙ্গিতপূর্ণ প্রতিক্রিয়া, ‘হুমম’।
Advertisement
ঘটনাচক্রে, ২০১৫ সালে অল্টম্যান ও মাস্ক হাত মিলিয়েই ওপেনএআই-এর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কিন্তু তিন বছর পর ওপেনএআই ছেড়ে বেরিয়ে আসেন মাস্ক। এক্সএআই নামে নতুন প্রতিযোগী সংস্থা গড়েন তিনি। গতমাসে মাস্ক অভিযোগ করেছিলেন, ওপেনএআই হল ‘মোনোপলিস্ট’। তার আগে প্রাক্তন সংস্থা সম্পর্কে সরব হয়েছিলেন সুচিরও। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছিলেন তিনি। 
তরুণ এই গবেষকের দাবি ছিল, এআই সংক্রান্ত প্রযুক্তিগুলির মাধ্যমে কপিরাইন আইন লঙ্ঘন হচ্ছে। চার বছর কাজ করার পর ওপেনএআই ছাড়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, আমার মতে বিশ্বাসী হলে আপনিও ওই সংস্থা থেকে ইস্তফা দিতেন। পরে কর্মক্ষেত্রে নিজের অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তিতে সোশ্যাল মিডিয়াতেও সরব হন তিনি। দাবি করেন, এআই-এর মডেলগুলিকে ভুলভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে লেখক, গবেষক, সাংবাদিক সহ বিভিন্ন পেশার মানুষের মেধাসত্ত্ব লঙ্ঘন করা হচ্ছে। তবে ওপেনএআই কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগ অস্বীকার করেছিল। তারই মধ্যে সুচিরের দেহ উদ্ধারের খবর ঘিরে রহস্য তৈরি হল।
সম্পর্কিত সংবাদ