নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: শ্বশুরবাড়িতে মেয়ের উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের খবর পেয়েছিলেন বাবা। মধ্যরাতে স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে দৌড়ে গিয়েছিলেন। সেখানে মর্মান্তিক পরিণতি। অভিযোগ, মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে জামাইয়ের মারে মৃত্যু হল প্রৌঢ়ের। রবিবার রাতে আগরপাড়া আজাদহিন্দ নগরের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘোলা থানার পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম অলোক মুখোপাধ্যায় (৫২)। অভিযুক্ত জামাই সৈকত বসুকে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে।
Advertisement
অলোকবাবুর বাড়ি আগরপাড়া সাধুরবাগান। মিনিট দশেকের দূরত্বে আগরপাড়া ২ নম্বর আজাদহিন্দ নগরের বাসিন্দা সৈকত বসু। বছর চারেক আগে অলোকবাবুর মেয়ে অয়ন্তিকার সঙ্গে সৈকতের বিয়ে হয়েছিল। প্রেম করে তাঁদের বিয়ে হলেও দাম্পত্য জীবন সুখের ছিল না। অভিযোগ, নানা অজুহাতে সে অয়ন্তিকার উপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালাত। রবিবার রাতেও দু’জনের মধ্যে অশান্তি বাধে। অয়ন্তিকাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। রাতেই তিনি বাবাকে ফোন করে নির্যাতনের কথা জানান। মেয়ের উপর অত্যাচারের কথা শুনে অলোকবাবু রাতেই স্ত্রীকে নিয়ে জামাইয়ের বাড়িতে ছুটে যান। কিন্তু ঝামেলা মেটা তো দূরের কথা, শ্বশুর-শাশুড়িকে দেখে সৈকত তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠে। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। সে মদ্যপ অবস্থায় শ্বশুরকে বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। প্রৌঢ়ের বুকে ঘুসিও মারা হয়। মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি থেকে রাস্তায় বের হন অলোকবাবু। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তড়িঘড়ি তাঁকে পানিহাটি স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কামারহাটি রথতলা সংলগ্ন বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সোমবার সকালে নিজের স্বামীর নামে ঘোলা থানায় বাবাকে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন অয়ন্তিকা।
ঘোলা থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্বশুরের মৃত্যুর খবর জেনেও রবিবার রাতে চুপচাপ বাড়িতে ঘুমিয়েছিল সৈকত। পুলিস সোমবার সকালে তাকে বাড়ি থেকেই গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিস জেনেছে, সৈকত নিজেকে পশু চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিত। কিন্তু সেই পরিচয় ছিল ভুয়ো।
ঘোলা থানা সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্বশুরের মৃত্যুর খবর জেনেও রবিবার রাতে চুপচাপ বাড়িতে ঘুমিয়েছিল সৈকত। পুলিস সোমবার সকালে তাকে বাড়ি থেকেই গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিস জেনেছে, সৈকত নিজেকে পশু চিকিৎসক হিসেবে পরিচয় দিত। কিন্তু সেই পরিচয় ছিল ভুয়ো।



