


সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: জিএনএলএফ কার্যত ‘সাইড বেঞ্চে’! এবার পাহাড়ের ভোটযুদ্ধের ময়দানে বিমল গুরুংয়ের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চাকে নিয়ে খেলছে পদ্ম শিবির। কেন? স্থানীয় সূত্রের খবর, এক বছর আগে লোকসভা ভোটে পাহাড়ে ধস নামে বিজেপি ও তাদের শরিক দলের ভোটব্যাংকে। সেই ভোট পুনরুদ্ধারেই এমন ছক কষেছে পদ্ম শিবির। এনিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, ‘মিউজিক্যাল চেয়ার’ নামে একটি খেলা রয়েছে। পাহাড়ের ক্ষমতা কব্জায় রাখতে শরিকদের টোপ দিয়ে সেই খেলায় নেমেছে পদ্ম শিবির। এজন্যই তারা জিএনএলএফকে সাইড বেঞ্চে বসিয়ে রেখে গুরুংকে নিয়ে খেলছে। এর উদ্দেশ্য ধসে যাওয়া ভোটব্যাংক উদ্ধার করা।
দার্জিলিংয়ের সাংসদ বিজেপির রাজু বিস্তা অবশ্য বলেন, অতীতের মতো শরিকদের সঙ্গে আলোচনা করেই প্রার্থী তালিকা ঠিক করা হয়েছে। আগে দু’বার পাহাড়ে বিজেপির টিকিটে লড়েছে জিএনএলএফ। এবার লড়ছে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। এর পিছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। কাজেই বিষয়টি নিয়ে কে কী বলছে, তা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছি না।
বিস্তা যাই বলুন না কেন পাহাড়ের রাজনৈতিক ময়দানে চর্চা যথেষ্ট ইঙ্গিতবহ। দীর্ঘদিন ধরেই পাহাড়ে স্থানীয় রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে জোট করে ক্ষমতা কব্জায় রেখেছে পদ্ম শিবির। ২০২১ সালে দার্জিলিং পাহাড়ে বিজেপির টিকিটে লড়াই করে জিএনএলএফ। কার্শিয়াং ও প্রতিবেশী জেলা কালিম্পংয়ের কালিম্পং কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী লড়াই করে। সেবার তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল গুরুংয়ের গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। সেবার তারা কার্শিয়াংয় জয়ী হলেও কালিম্পংয়ে জয়ী হয় অনীত থাপার ঘনিষ্ঠ গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা প্রার্থী। তিনি পরে অনীতের বিজিপিএম দলে শামিল হন।
এরপর চব্বিশের লোকসভা নির্বাচনে রাজু বিস্তার ভোটব্যাংকে ধস নামে। স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বক্তব্য, জিএনএলএফ কে ছায়াসঙ্গী করেও বিজেপি ভোটব্যাংক ধরে রাখতে পারেনি। তিস্তা নদীর ছোবলে পাহাড় যেমন ধসেছে, ঠিক সেই ভাবেই গত লোকসভা নির্বাচনে বিস্তার ভোটব্যাংক তছনছ হয়ে গিয়েছে। সৌজন্যে অনীতের বিজিপিএম। সম্ভবত এনিয়েই অশনি সংকেত দেখছেন বিস্তা। তাই তিনি গুরুংয়ের হাত ধরেছেন।
বিগত দু’টি লোকসভা ভোটের পরিসংখ্যান থেকেই বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে যাবে। উনিশের লোকসভা ভোটে কালিম্পং বিধানসভা কেন্দ্রে ৬২ হাজার ৫৭৫, দার্জিলিংয়ে ৮৫ হাজার ৮২৪ এবং কার্শিয়াংয়ে ৮৭ হাজার ৫৯৭ ভোটের লিড ছিল বিজেপির। তিনটি কেন্দ্রে তাদের মোট লিডের পরিমাণ ২ লক্ষ ৩৫ হাজার ৯৯৬ ভোট। চব্বিশের লোকসভা ভোটে সেই লিড থেকে উধাও হয়ে যায় ১ লক্ষ ৪২ হাজার ৬৮৭ ভোট। অর্থাৎ বিজেপির লিড কমে দাঁড়ায় ৯৩ হাজার ৩০৯। একই সঙ্গে বিজেপির ভোটও কমেছে। কালিম্পংয়ে ৬৭ থেকে কমে ৫৩.২৪, দার্জিলিংয়ে ৭২.৭৯ থেকে কমে ৫৫ এবং কার্শিয়াংয়ে ৭২.১২ থেকে কমে ৫৭.১৭ শতাংশ হয়েছে।