বেনফিকা- ৪ : রিয়াল মাদ্রিদ- ২
বেনফিকা- ৪ : রিয়াল মাদ্রিদ- ২
লিসবন: দ্বিতীয়ার্ধের সংযোজিত সময় চলছে। ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দল। এমন পরিস্থিতিতে যে কোনও কোচ চাইবেন, কোনওক্রমে বাকি সময়টা কাটিয়ে জিতে মাঠ ছাড়তে। তবে হোসে মরিনহো বরাবরই অন্যরকম। তাই তো তিনি ‘দ্য স্পেশাল ওয়ান’। বুধবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বেনফিকা বনাম রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচে দল প্রতিপক্ষ বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক পেতেই ইশারায় গোলরক্ষককে উঠে যেতে বললেন মরিনহো। কারণ, টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে ৪-২ ব্যবধানে জিততে হত তাদের। আর সংযোজিত সময়ের অষ্টম মিনিটে হেডে জাল কাঁপালেন বেনফিকার গোলরক্ষক আনাতোলি ট্রাবিন। সেই সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে পঞ্চম গোলরক্ষক হিসেবে গোল করার নজির গড়লেন তিনি। তাঁর আগে রয়েছেন হান্স-জর্জ বাট, সিনান বোলাট, এনেয়েমা ও প্রোভেদেল। ৪-২ ব্যবধানে জিতে প্লে-অফে মরিনহো-ব্রিগেড। আর হেরে সরাসরি প্রি কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলার ছাড়পত্র নিশ্চিত করতে ব্যর্থ রিয়াল। গ্রুপ পর্বে নবম স্থানে শেষ করায় তাদেরও খেলতে হবে প্লে-অফে।
বিশ্ব ফুটবল আঙিনায় বরাবর শিরোনামে থেকেছেন মরিনহো। গত কয়েক বছর অবশ্য কিছুটা নিজেকে প্রচারের আড়ালেই রেখেছিলেন এই পর্তুগিজ কোচ। তবে বেনফিকার হাত ধরে ফের ইউরোপিয়ান ফুটবলের মূলস্রোতে ফেরেন তিনি। বুধবার অ্যাওয়ে ম্যাচে ড্র করলেই সরাসরি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করত রিয়াল। আর বেনফিকাকে টিকে থাকতে জিততেই হত। এমন পরিস্থিতিতে পিছিয়ে পড়েও বিরতিতে ২-১ গোলে এগিয়ে মাঠ ছাড়ে বেনফিকা। এই পর্বে পর্তুগিজ ক্লাবটির হয়ে জাল কাঁপান আন্দ্রেস ও ভানজেলিস। রিয়ালের গোলটি এমবাপের। বিরতির পর ৩-১ করেন আন্দ্রেস। আর রিয়ালের হয়ে ফের জাল কাঁপান ফরাসি তারকা (৩-২)। এই পর্বে মনে হয়েছিল, হার বাঁচাতে মরিয়া চেষ্টা চালাবে রিয়াল। তবে পাল্টা গোল চাপিয়ে শেষ হাসি হাসল বেনফিকা।
প্রাক্তন দলের বিরুদ্ধে এমন অবিশ্বাস্য জয়ের পর মরিনহো অবশ্য পুরো কৃতিত্ব ছেলেদের দিচ্ছেন। বলেন, ‘ভাগ্যবান যে তখন ফ্রি-কিক পাই। ট্রাবিন আগেও গোল করার জায়গায় পৌঁছে গিয়েছিল। তাই ঝুঁকিটা নিয়েছিলাম। গোলের পর মনে হচ্ছিল, গোটা স্টেডিয়াম ভেঙে পড়বে।’